আজ শনিবার | ২০ জানুয়ারি, ২০১৮ ইং
| ৭ মাঘ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী | সময় : সকাল ৭:১৬

মেনু

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক টিকিয়ে রাখতে বন্ড ছাড়ার উদ্যোগ

বাংলাদেশি রাষ্ট্রায়াত্ব ব্যাংক

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক টিকিয়ে রাখতে বন্ড ছাড়ার উদ্যোগ

সোমবার, ১৩ মার্চ ২০১৭
৪:৫৪ পূর্বাহ্ণ
28539 বার

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে টিকিয়ে রাখতে বন্ড ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আর্থিকভাবে দূরবস্থার কথা উল্লেখ করে সরকারের কাছে বন্ড ছাড়ার অনুমতি চেয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংক। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগেরও ইতিবাচক মতামত পেয়েছে বেসিক ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলাউদ্দিন এ মজিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘আগের পর্ষদ বেসিক ব্যাংককে দুরবস্থার মধ্যে রেখে গেছে। এখন সেই ব্যাংক আবার ঘুরে দাড়াচ্ছে। এক্ষেত্রে বন্ড ইস্যু করা হলে ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে। এতে বেসিক ব্যাংক আবারও মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে।’

জালিয়াতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার পর ব্যাপক মূলধন ঘাটতির মুখে পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই তিনটি ব্যাংক। অবশ্য ঘাটতি পূরণে এর আগে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে জাতীয় বাজেট থেকে মূলধন সহায়তা দিয়েছে সরকার।

জানা গেছে, মূলধন ঘাটতি পূরণে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক ১ হাজার কোটি টাকা, বেসিক ব্যাংক ২ হাজার ৬শ কোটি টাকা এবং রূপালী ব্যাংক ৫শ কোটি টাকার বন্ড ছাড়তে সরকারের কাছে আবেদন করেছে।

এর আগে গত ডিসেম্বর মাসে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, বেসিক ব্যাংককে টিকিয়ে রাখতে বন্ড ছাড়বে সরকার। তিনি বলেছেন,‘ব্যাংকটি আর্থিকভাবে দূরবস্থার মধ্যে রয়েছে। এটাকে টিকিয়ে রাখতে বন্ড ইস্যু করা হবে।’

এদিকে সম্প্রতি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বেসিক ব্যাংকের বন্ড ছাড়ার বিষয়ে ইতিবাচক মতামত দিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে একটি সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেছে।

এতে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোর ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদ, মূলধন সংরক্ষণের হারসহ অন্যান্য সূচক বিবেচনা করলে আগামী দিনগুলোতে মূলধন ঘাটতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে প্রতীয়মান হয়।

এ কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণে বন্ড ইস্যু একটি মাধ্যম হতে পারে। সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, এই মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করা হলে আপাতত সরকারের ওপর কোনও নগদ দায় বর্তাবে না। তবে নির্ধারিত মেয়াদ শেষে ব্যাংকগুলো সুদ-আসলে বন্ড ক্রেতাদের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে এর দায় সরকারের ওপর বর্তাবে।

প্রসঙ্গত, ঋণ কেলেঙ্কারির পর থেকে মূলধন ঘাটতিতে পড়ে বেসিক ব্যাংক। এই ঘাটতি পূরণে ব্যাংকটি গত ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকার সুদমুক্ত বন্ড চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি পাঠায়। ১০ থেকে ২০ বছর মেয়াদি মোট ২৬টি বন্ডের মাধ্যমে এই অর্থ দেওয়ার আবেদন করা হয়।

অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো বেসিক ব্যাংকের প্রস্তাবটির সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, প্রতিটি ১শ কোটি টাকা মূল্যের মোট ২৬টি বন্ড ইস্যু করা হবে। এর মধ্যে ১০ বছর মেয়াদি ৮টি, ১৫ বছর মেয়াদি ৮টি ও ২০ বছর মেয়াদি ১০টি বন্ড রয়েছে। প্রস্তাবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মতামত দিতে গিয়ে বলেছেন, বেসিক ব্যাংকের অনুকূলে বন্ড ইস্যু করা হলে মূলধন ঘাটতির আংশিক পূরণ হবে। বিপুল অংকের মূলধন ঘাটতি বাজেট থেকে পূরণ করা যাবে না। চলতি বাজেট থেকে এই অর্থ দেওয়া হলে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হবে।

বেসিক ব্যাংকের পর ৫শ কোটি টাকার বন্ড ছাড়ার অনুমতি চেয়ে রূপালী ব্যাংকও আবেদন করে সরকারের কাছে। সম্প্রতি রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকও আবেদন করেছে ১ হাজার কোটি টাকার বন্ড ছাড়ার জন্য। আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং রীতি অনুযায়ী ব্যাসেল-৩ গাইডলাইন পরিপালন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালনার জন্যও ব্যাংকের মূলধন বাড়ানো দরকার বলে সরকারের কাছে ৭ বছর মেয়াদী বন্ড ছাড়ার অনুমতি চেয়েছে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। জনতা ব্যাংকের বিষয়ে ইতোমধ্যে সম্মতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বন্ড ইস্যু হোক আর যাই হোক, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণ করা আসল সমাধান নয়। এই ব্যাংকগুলোতে সুশাসন জরুরি।’ তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হলে অনেকাংশে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত কোনও ব্যাংক বন্ড ছাড়তে চাইলে সরকার সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতামতের দরকার হলে সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন
Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedInPrint this page

মন্তব্য

comments

শেয়ার করুন
error: Content is protected !!