জেড.এইচ. সিকদার ইউনিভার্সিটিতে নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদযাপন

1674

শনিবার সকাল থেকে বর্ণীল সাজে সেজেছে শরীয়তপুরের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় জেড এইচ সিকদার ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের ১১তম থেকে ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রেশার্স ডে-২০১৮ শিরোনামে নবীন বরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছে এক হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী। নবীন বরণের সাথেই পুরস্কার বিতরণী এবং দিনব্যাপী জমকালো ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল দশটায় পবিত্র কোরআন এবং গীতা থেকে পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে নড়িয়া উপজেলা কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াসমিন, বিশেষ অতিথি হিসেবে কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন ড. এমরান পারভেজ খান সহ অন্যান্য বিশেষ অতিথিবৃন্দ মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন।

নবীণ শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়ার মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। অগ্রজ শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখে ইংরেজি বিভাগের নবম ব্যাচের শিক্ষার্থী মেরি আক্তার। সে বলে, “সকল অগ্রজদের পক্ষ থেকে আজ তোমাদের মুক্ত হস্তে, মুক্ত মনে, সর্বোপরি মুক্ত হৃদয়ে স্বাগত জানাচ্ছি আমাদের এই স্বপ্নপুরীতে।”

নবীন শিক্ষার্থী আসিফ হায়াত স্বরচিত কবিতা পাঠের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম, বর্তমান পরিস্থিতি এবং ক্যাম্পাসের নানান দিক তুলে ধরে।

আঞ্জুমান আরা অনুভূতি প্রকাশ করার সময় বলে, “এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হতে পেরে আমি গর্বিত। খুব অল্প সময়ে এই ক্যাম্পাস আমাদের আপন করে নিয়েছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বলে সে, “তিনি যদি শরীয়তপুরে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা না করতেন, অনেকের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন পূরণ হতো না।”

জয় চন্দ্র বলে, “এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা ডাকনাম আছে। সেটা হলো মায়াপুরী।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রধান মাসুদ রানা বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে জয়নুল হক সিকদার এ অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মোচন করেছেন।”

ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক বিভাগের চেয়ারম্যান সনেট কুমার সাহা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “বিষয়ভিত্তিক ও প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান অর্জন করে জনগণকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করতে হবে, তবেই শিক্ষার উদ্দেশ্য পূর্ণ হবে।”

কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন ড. এমরান পারভেজ খান আনন্দের সাথে পড়াশোনার কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমার সামনে আনন্দদের সাথে পড়াশোনা করা ছাত্র-ছাত্রীরা বসে আছে। আনন্দের সাথে পড়াশোনা করলে সেটা বেশি কার্যকর হয়, মনেও গেঁথে থাকে।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াসমিন মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাকারী, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তার বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, “এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা জয়নুল হক সিকদারও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।”

নবীন শিক্ষার্থীদের যে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়, সে ফুলের প্রসঙ্গে বলেন, “তোমরা লক্ষ করলে দেখবে তোমাদের দেয়া ফুলগুলোর কিছু ফুল প্রস্ফুটিত আর কিছু এখনো কলি রয়েছে। প্রস্ফুটিত ফুলগুলো তোমাদের জীবনের ফুরিয়ে যাওয়া ও প্রস্তুতি গ্রহণের সময়। আর কলিগুলো সামনের দিনগুলোকে নির্দেশ করছে। তোমাদের কলি সময়টাকে প্রস্ফুটিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে কাজ করে যাও।”

শিক্ষাক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের কথা উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, “তোমরা দক্ষ একজন ভিসি পেয়েছো যার দক্ষতার ছোঁয়া ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বক্ষেত্রে লেগেছে।”

তিনি শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয় সুনাগরিক তৈরির কারখানা। এখান থেকে সুনাগরিক হয়ে বের হতে হবে।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যের পরে অতিথিবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত মকফরুদ্দীন ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০১৮-এর বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

এছাড়াও সৃজনশীল উদ্ভাবনের জন্য ইলেট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক বিভাগের শিক্ষার্থী আমিরা খানম এবং কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মাহফুজা আলম তৃষ্ণাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে তৃষ্ণা ঢাকা বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেছিল।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌসের সভাপতির বক্তব্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল হক সিকদারকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সুযোগসুবিধার কথা উল্লেখ করে বলেন, “এ এলাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো যাতায়াত। এ সমস্যা সমাধানের জন্য ২টি বাসের সাথে আরো ২টি বাস সংযুক্ত করা হয়েছে। বাসের জন্য অনুদান দিয়েছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও দানবীর সিকদার স্যার।”

তিনি নারী শিক্ষা ও নারী ক্ষমতায়নের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নারী ক্ষমতায়নের বিকল্প নাই। আমাদের মেয়েদের মানসিকতায় পরবির্তন আনতে হবে।”

তিনি মেয়েদের উদ্দেশ্যে বলেন, “চাকরি না পেয়ে কেউ বিয়ে করবে না। নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে।”

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “তোমরা নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন ও পড়াশোনা উপভোগ করো। পড়াশোনার মাধ্যমে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য যোগ্য হয়ে ওঠো। সবার জন্য শুভকামনা ও দোয়া।” তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আলোচনা পর্বের সমাপ্তি হয়।

এরপর দুপুরের খাবারের বিরতি দেয়া হয় এবং বিকেল তিনটায় শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এ সময় ক্যাম্পাস বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুখরিত হয়ে ওঠে। উপস্থিত দর্শকেরা উপভোগ

::শেয়ার করুন::
Share on Facebook
Facebook
Share on Google+
Google+
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Print this page
Print
Email this to someone
email

মন্তব্য

comments