আজ বুধবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

সদরঘাটে যাত্রীদের হয়রানি বন্ধের দাবীতে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন সংগঠনের মানববন্ধন

সদরঘাটে যাত্রীদের হয়রানি বন্ধে আইনের সঠিক প্রয়োগের দাবী জানিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন ছাত্র ও পেশাজীবী সংগঠনের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৯ মে) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করে বলেন, কোনো ধরনের নিয়ম না মেনেই সদরঘাটের প্রবেশপথে ইজারাদারের লোকেরা ইচ্ছামতো টোল আদায় করেন। হাতে কোনো মালামালের ব্যাগ দেখলেই টান দিয়ে লঞ্চে পৌঁছে দেয়ার পর দাবি করে অতিরিক্ত টাকা। কম দিতে চাইলে কুলিদের হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হতে হয় যাত্রীদের। এছাড়াও ঈদ এলে মলম পার্টি ও ছিনতাইকারীদের উৎপাত আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ে।
তারা আরও বলেন, এবারের ঈদ ভরাবর্ষায় তাই নৌপথে কিছুটা ঝুঁকি থেকেই যায়। তাই যাত্রীদের নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনে নৌযানে অতিরিক্ত যাত্রী বহন বন্ধে কঠোর হতে হবে। তাই দুর্ঘটনা ঘটার আগেই অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং ফিটনেসবিহীন নৌযান চলাচল বন্ধে প্রশাসনের আন্তরিকতা কামনা করছি। এছাড়া আমরা লক্ষ্য করছি সদরঘাটে যাত্রী ভোগান্তির সবচেয়ে বড় কারণ কুলিদের দৌরাত্ম্য। এবার ঈদে কুলিদের দ্বারা যাত্রী হয়রানি বন্ধে প্রশাসন তৎপর হলে যাত্রীরা স্বস্তি পাবে।
সদরঘাটে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল হয়ে নৌপথে পাড়ি জমান বরিশাল, চাঁদপুর, পটুয়াখালী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ভোলা, মুন্সীগঞ্জসহ কয়েকটি জেলার প্রায় কয়েক লাখ যাত্রী। এসব যাত্রীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে টিকিটকেন্দ্রিক তেমন সমস্যা না থাকলেও টার্মিনালে এসে কুলি ও ঘাট-শ্রমিকদের দৌরাত্ম্যে নাজেহাল হতে হয়। পাশাপাশি ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। আর ঈদ এলে এসব সমস্যা দ্বিগুণ আকার ধারণ করে। ঘরমুখো মানুষকে টার্গেট করে কুলি ও ছিনতাইকারী চক্র। এছাড়াও যাত্রীদের কাছ থেকে জোর করে নেয়া হয় নির্ধারিত টাকার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। আর এসব ঘটনা ঘটছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সামনেই।
জানা গেছে, ঘাটের বাণিজ্যিক মালামাল ব্যবহারের জন্য নিউভিশন ইকোসিটি লি.-এর মাধ্যমে কুলি নিয়োগ দেয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ আওয়ামী লীগ যুবলীগের সদস্য শিপু আহমেদ। অভিযোগ আছে, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কুলিরা রাজত্ব করে এ ঘাটে। ফলে তাদের বিরুদ্ধে কঠিন কোনো শাস্তির ব্যবস্থা নিতে পারে না বন্দর কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে যাত্রীদের মালামাল বহন করার জন্য কুলি নিয়োগ দেয় বিআইডব্লিউটিএ। এদের অনেকই রাজনৈতিক প্রভাব এবং সংঘবদ্ধ হয়ে ঘাটে রাজত্ব করে।