আজ শনিবার, ৯ই ডিসেম্বর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

নড়িয়ায় নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের প্রয়ান দিবস পালিত

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় বাংলা নাটকের ধ্রুবপুত্র নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ১২তম প্রয়ান দিবস উপলক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন ও  আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৪ই জানুয়ারী মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার হাজী শরীয়তুল্লাহ অঞ্চলের কীর্তিনাশা থিয়েটার ও চাকধ থিয়েটারে আয়োজনে নড়িয়া মাল্টিলিংক স্যাটেলাইট অফিসে সেলিম আল দীনের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে তার জীবন কর্ম সম্পর্কে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভাপতিত্ব করেন হাজী শরীয়তউল্লাহ অঞ্চলের সমন্বয়কারী আহমেদ জুলহাস, সঞ্চালনায় ছিলেন চাকধ থিয়েটারের পরিচালক রকি আহমেদ।

আলোচনা অতিথি হিসেবে ছিলেন নড়িয়া কীর্তিনাশা থিয়েটার সাবেক সাধারন সম্পাদক জনাব মালা বস কাজী, কীর্তিনাশা থিয়েটারের সভাপতি ডিএম বরকত আলী মুরাদ ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন কীর্তিনাশা থিয়েটারের নাট্যকর্মী জাহাঙ্গীর ছৈয়াল, সিদ্দিকুর রহমান, শাহিন খান, পিংকু ঘোষ,কাজী পরশ, সজল ঘোষ, আনোয়ার হোসেন, শহিদুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন, মোজাম্মেল হোসেন, রাইসা, সোয়া ইসলাম, সোলাইমান সুইম,চাকধ থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক গৌতম কুমার জয়, সাংগঠনিক সম্পাদক লিটন চন্দ্র বাড়ৈ, দপ্তর সম্পাদক রুবেল মৃধা, নাট্যকর্মী বোরহানউদ্দিন, গৌতম মন্ডল সহ অন্যান্য নাট্যকর্মী বৃন্দ।

সভায় আলোচকগণ নতুন নাট্যকর্মীদের সেলিম আল দীনের নাটক পাঠ ও প্রয়োগ ভাবনা আনুধাবন করার তাগিদ দেন। সেলিম আল দীন বাংলা নাটককে উপনিবেশিকতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে হাজার বছরের ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। রবীন্দ্রোত্তর বাংলা নাটকের এই ক্ষণজন্মা পুরুষ শুধু একজন অসামান্য নাট্যকারই ছিলেন না, ছিলেন একজন দক্ষ সংগঠক। যিনি বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার সৃষ্টির একজন অন্যতম কারিগর। সেলিম আল দীন হাজার বছর বেঁচে থাকবেন তার অমর নাট্যসৃষ্টির মাধ্যমে এবং তাঁর নাটক আরো বেশি করে মঞ্চায়ন হওয়া উচিত কারণ তাঁর নাটকই বাংলা নাটকের দর্পনসম।

এসময় আলোচকরা ঢাকা মানিকগঞ্জ সাভারের বুনন থিয়েটারের নাট্যকর্মীদের উপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।

প্রসঙ্গত ১৯৪৯ সালে ১৮ আগস্ট ফেনীর সোনাগাজিতে জন্মগ্রহণ করেন সেলিম আল দীন। ১৯৭৪ সালে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। তার হাত ধরেই ১৯৮৬ সালে যাত্রা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ। ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন রবীন্দ্রোত্তরকালের শ্রেষ্ঠ এই নাট্যকার। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।