আজ বুধবার, ২২শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

নড়িয়ায় করোনা ছড়িয়ে পরার আশঙ্কা, জেলা প্রশাসকের সতর্কতা জারী

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে একজন মারা যাওয়া পর পুরো জেলায় শুরু হয়েছে ভাইরাস আতঙ্ক। এ ঘটনায় নড়িয়া উপজেলার ৩৪ পরিবারের ১৮৯ জনকে লকডাউন করেছে স্থানীয় প্রশাসন। যদিও ওই বৃদ্ধ পরিবারে কেউ বিদেশফেরত নেই। গত এক মাসের মধ্যে বিদেশফেরত কেউ তাদের বাড়িতেও আসেনি। এমনকি আত্মীয়-স্বজনদের কেউও না। এরপরও করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন ৯০ বছরের ওই বৃদ্ধ। শনিবার (৪ এপ্রিল) নমুনা পরীক্ষার পর করোনায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। এর আগে বুধবার (০১ এপ্রিল) হঠাৎ অসুস্থ হলে ওই বৃদ্ধকে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় স্বজনরা। সেখান থেকে তাকে ঢাকায় পাঠায় চিকিৎসকরা। পরে ঢাকার মহাখালী বক্ষব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমনটি নিশ্চিত করেছেন শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাজী আবু তাহের।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ডিসি জানান, নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের ৯০ বছরের এক বৃদ্ধ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তার মরদেহ পরিবারকে না দিয়ে আইইডিসিআরের তত্ত্বাবধানে বিশেষ ব্যবস্থায় দাফন করা হয়েছে।

ডিসি বলেন, ওই ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ করোনা ভাইরাস। অতএব এটি নিশ্চিত যে, নড়িয়া উপজেলায় করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি রয়েছে। যা ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমতাবস্থায় স্থানীয় মানুষদের প্রয়োজন ছাড়া বের না হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। আইন অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে এই ঘটনার পর নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাইফুল ইসলাম ও নড়িয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান গিয়ে ওই বৃদ্ধের পরিবারের ৯ জন ও আশপাশের ২৪ পরিবারের ১২৭ জনকে লকডাউনে রাখার নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘড়িসার ইউনিয়নের আরও ৯ পরিবারের ৫৩ জনকে লকডাউন করা হয়। প্রশাসনের হিসেবে মোট সংস্পর্শে আসা ৩৪ পরিবারের ১৮৯ জনকে লকডাউন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, শনিবার (০৪ এপিল) শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে জ্বর ও মাথাব্যথা নিয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত ওই নারীর বাড়ি শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামে। মৃত্যুর পর ওই নারীর সংস্পর্শে আসা ৭ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা গ্রহন করেছে প্রশাসন। এছাড়া করোনা ভাইরাস নিশ্চিত হতে তার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: মুনির আহমেদ খান।