আজ বুধবার, ২২শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

শরীয়তপুরে শান্তিপূর্ন ভোটগ্রহণ সম্পন্ন, ভোটার উপস্থিতি কম

শরীয়তপুরের ৬টি উপজেলার মধ্যে ৫টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্নভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (২৪ মার্চ) সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত জেলার মোট ২৭২টি কেন্দ্রে একটানা ভোটগ্রহণ চলে। ভোটগ্রহনের পর গণনা শেষে একেক কেন্দ্রের ভোটের ফলাফল ঘোষণা হচ্ছে। তবে অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি কম লক্ষ্য করা গেছে।
শরীয়তপুরের ছয়টি উপজেলার মধ্যে ভেদরগঞ্জ উপজেলায় কোন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী না থাকায় এ উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়নি। শরীয়তপুরের ছয়টি উপজেলার মধ্যে ৫টি উপজেলায় আওয়ামী লীগের মনোনিত ৫ জন চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া ১ জন ভাইস চেয়ারম্যান ও ২ জন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। শুধুমাত্র গোসাইরহাট উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা হলেন, শরীয়তপুর সদর উপজেলায় আবুল হাসেম তপাদার, জাজিরা উপজেলা মোবারক আলী শিকদার, নড়িয়া উপজেলায় একেএম ইসমাইল হক, ভেদরগঞ্জ উপজেলায় হুমায়ুন কবির মোল্যা ও ডামুড্যা উপজেলায় আলমগীর হোসেন মাঝি।
এ ছাড়া শরীয়তপুর সদর উপজেলায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সামিনা ইয়াছমিন ও ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে আব্দুল মান্নান বেপারী ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আকলিমা আক্তার লিপি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
গত ৮ মার্চ দুপুরে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও জাজিরা, ভেদরগঞ্জ ও ডামুড্যা উপজেলা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সেক মুহাম্মদ জালাল উদ্দিন এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও সদর, নড়িয়া ও গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন তালুকদার এদেরকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে গণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন।
ছয়টি উপজেলার মধ্যে শুধুমাত্র গোসাইরহাট উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বর্তমান চেয়ারম্যান সৈয়দ নাসির উদ্দিন ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান ঢালীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দিতা হয়।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মুরাদ হোসেন আজগর তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেয়ায় বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল হাসেম তপাদার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ফাতেমা আক্তার শিল্পী ও পান্না খান তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেয়ায় সামিনা ইয়াছমিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এ উপজেলায় শুধু ভাইস চেয়ারম্যান পদে ফারুক আহম্মদ তালুকদার ও মোস্তাফিজুর রহমান সোহাগের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়।
জাজিরা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের একমাত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মোবারক আলী শিকদার মনোনয়নপত্র দাখিল করায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে নজরুল ইসলাম তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। বাকি শফিকুল ইসলাম, বাদশা মিয়া, মোফাজ্জল হোসেন ও সেলিম হোসেনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পারভীর আক্তার, জাহানারা বেগম ও ফাতেমা আক্তার এই তিন প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। এখানে কোন মহিলা ভাইস চেযারম্যান প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেনি।
নড়িয়া উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে জাতীয় পার্টির মাসুদ রানা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শহিদুল ইসলাম শিকদার তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেয়ায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান একেএম ইসমাইল হক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র আতিকুর রহমান ভূইয়া তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বাকি চার প্রার্থী কামাল হোসেন মৃধা, আলমগীর মৃধা, বিএম মুনির হোসেন ও জাকির হোসেন বেপারীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ প্রার্থীর মধ্যে মনি বেগম, শিল্পী হোসেন ও পারভীন ইসলাম তাদের মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নেন। বাকি নাজমা আক্তার ও রাজিয়া সুলতানার মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়।
ভেদরগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের হুমায়ুন কবির মোল্যা, ভাইস চেয়ারম্যান পদে আব্দুল মান্নান বেপারী ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আকলিমা বেগম লিপি এককভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এ উপজেলায় অন্য কোন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল না করায় তারা তিনজনই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তাই এখানে ভোটের আয়োজন প্রয়োজন হয়নি।
ডামুড্যা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক পিন্টুর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন মাঝি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে চার জন প্রার্থীর মধ্যে দেলোয়ার হোসেন ও রোকনুজ্জামান খান তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেয়ায় বাকি বোরহান উদ্দিন ও আব্দুর রশিদ গোলন্দাজের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র নাজমা আক্তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় রেহানা আক্তার ও খাদিজা খানমের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় ।
গোসাইরহাট উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে তিনজন প্রার্থীর মধ্যে দেওয়ান মোহাম্মদ শাজাহান মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান সৈয়দ নাসির উদ্দিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান ঢালীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোহাম্মদ আবুল খায়ের, মনিরুজ্জামান, এসএম শাজাহান ও চৌধুরী আহসান সিদ্দিকি এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নাজমা বেগম, রহিমা খাতুন ও মাহফুজা বেগমের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়।-সুত্র: দৈনিক রুদ্রবার্তা