আজ মঙ্গলবার | ২২ অক্টোবর, ২০১৯ ইং
| ৭ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২১ সফর, ১৪৪১ হিজরী | সময় : ভোর ৫:৪৬

মেনু

নড়িয়ায় দালালের খপ্পরে পরে একটি পরিবার নিঃস্ব

নড়িয়ায় দালালের খপ্পরে পরে একটি পরিবার নিঃস্ব

সোমবার, ২৪ জুন ২০১৯
৫:৫০ পূর্বাহ্ণ
105 বার

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় দালাদের খপ্পরে পরে জমি দিয়ে ও ঋণ করে একটি পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। উপজেলায় ভূমখাড়া ইউনিয়নের উত্তর চাকধ গ্রামের সাহানা বেগমের পরিবারে এ ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার নড়িয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী সাহানা বেগম জানান, সাহানা বেগমের স্বামী আবুল হোসেন হাওলাদারের মুরগির ফার্মের ব্যবসা ছিল। তাদের দুই ছেলে এক মেয়ে। এ ব্যবসা করে সন্তানদের নিয়ে টানা পোড়ায় সংসার চলতো। বিল্লাল হোসেন ও ইমান হোসেন তাদের দুই ছেলেকে ইতালি পাঠাবে বলে উত্তর চাকধ গ্রামের সরবত আলী হাওলাদারের ছেলে দালাল কামাল হোসেন হাওলাদার ওরফে আলমগীর দালালের (৫৫) সরনাপন্ন হন। আলমগীর দালাল সাহানা বেগমের দুই ছেলেকে ফ্যামিলি ভিসায় ইতালি নিবেন বলে আশ্বাস দেন। সেই আশ্বাসে গত ২০১৩ সালে সাহানার স্বামী আবুল হোসেন হাওলাদার সাথে আলমগীর দালালের সাথে চুক্তি হয় যে দুই ছেলেকে ইতালি নেয়ার জন্য ২২ লাখ টাকা লাগবে। ২২লাখ টাকায় রাজি হন সাহানার পরিবার। প্রথমে আলমগীর দালালকে অর্ধেক টাকা দিতে হবে, পরে ইতালি নেয়ার পর বাকি টাকা দিতে হবে এমন কথা হয় তাদের সাথে।
তাই সাহানার স্বামী আবুল হোসেন পূর্বালী ব্যাংক থেকে ৮লাখ টাকা লোন তোলেন। সেই টাকা থেকে আলমগীর দালালের কথা মতো তার মা হালিমা বেগমের (৭০) কাছে ৭ লাখ টাকা দেন আবুল হোসেন। এছাড়াও আবুল হোসেনের কাছ থেকে সাড়ে ৮ শতাংশ জমি লিখে নেন আলমগীর দালাল।
সাহানা বেগম বলেন, টাকা ও জমি দেয়ার পর আমার দুই ছেলেকে আলমগীর দালাল নিজের ছেলে বানিয়ে পাসপোর্ট ও কোর্টে এফিডএভিট করেন। কিন্তু সাত বছর যাবত ইতালি নেবে বলে তালবাহানা শুরু করে। আলমগীর দালাল এখন বলছে আমার ছেলে বিল্লাল ও ইমানের বয়স বেশি হয়ে গেছে ইতালি নেয়া যাবে না। দালালকে নগদ টাকা ও জমি দিয়ে পথে বসেছি। ঋনের টাকা ও জমির শোকে আমার স্বামী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ২০১৭ সালে মারা যায়। এখন সংসার চালাতে আমার এক ছেলে রিকসা চালায় ও অন্য ছেলে রাজমিস্ত্রির কাজ করে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কামাল হোসেন হাওলাদার ওরফে আলমগীর দালাল বলেন, সাহানা বেগমদের কাছ থেকে সাড়ে ৮ শতাংশ জমি আমি কিনেছি। আর ইতালি নেয়ার জন্য যেই ৭লাখ টাকা দিয়েছে শুনেছি, তা নাকি আমার মার কাছে দিয়েছে। আমি টাকা পাইনি।
বাংলাদেশ মানবাধীকার কমিশন শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাড. মাসুদুর রহমান মাসুদ বলেন, অনেক পরিবার দলালদের প্রতারণার স্বীকার হয়ে সর্বশান্ত হয়েছে। অনেকে জমি বিক্রি করে ও ঋণ করে পথে বসেছে। সম্প্রতি দালালদের মাধ্যমে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার সময় শরীয়তপুরের নড়িয়ার ৯জন যুবক সাগরে তলিয়ে যায়। তাদের অনেকেই নিহত হয়েছে। তাই সকলকে সজাগ থাকতে হবে। দালালদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। যদি কারো বিদেশ যেতে হয় তাহলে সরকারের দেয়া নিয়ম মেনে যাওয়া উচিৎ।
নড়িয়া থানা পুলিশের এসআই শ্যামল দত্ত বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ করেছেন সাহানা বেগম। বিস্তারিত জানার জন্য দুই-এক দিনের মধ্যে দুই পক্ষকে থানায় ডাকা হবে।

::শেয়ার করুন::
Share on Facebook
Facebook
Share on Google+
Google+
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Print this page
Print
Email this to someone
email

মন্তব্য

comments




নড়িয়ায় মা ইলিশ ধরায় ১০ জেলে আটক
১৫ অক্টোবর ২০১৯ 3522 বার

  • সর্বশেষ প্রকাশিত  
  • সর্বাধিক পঠিত  

error: Content is protected !!