শরীয়তপুরে ধর্ষণ মামলায় মেয়র পুত্রের জামিন বাতিল, ফের কারাগারে

202

শরীয়তপুরের চাঞ্চল্যকর কলেজ ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় জাজিরার মেয়র পুত্র মাসুদ বেপারীর জামিন বাতিল করেছেন শরীয়তপুরের জেলা ও দায়রা জজ। ফের কারাগারে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।

গত ০৮ জুলাই মামলা দায়েরের মাত্র ৮ দিনের মাথায় একই আদালতের একজন ভারপ্রাপ্ত নারী বিচারক অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাসুদকে অন্তরবর্তীকালিন জামিন দিয়েছিলেন। মাসুদকে জামিন দেয়ার পর ফুঁসে উঠে শরীয়তপুরের সুশীল সমাজ। ১০ জুলাই তারা শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে। আজ ১১ জুলাই মাসুদ আদালতে হাজির হলে আদালত তার জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ভিকটিম নিজে ও তার মা-বাবা।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুন বিকেলে শরীয়তপুর জেলার জাজিরা পৌরসভার মেয়র ইউনুছ বেপারীর বিবাহিত পূত্র মাসুদ বেপারী তার দু:সম্পর্কের আত্মীয়া হতদরিদ্র প্রান্তিক কৃষকের এক কলেজ পড়–য়া মেয়েকে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে মেয়েটিকে শ্বাস রোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। নিজের বুদ্ধি আর সাহসিকতার জোরে মেয়েটি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। বিষয়টি রাত ১০টার দিকে জেলা পুলিশের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ জানতে পারলে মাসুদ বেপারীকে ওই দিন রাত আড়াইটার দিকে আটক করে। ৩০ জুন ওই মেয়েটি ও তার বাবা দুপুরে জাজিরা থানায় হাজির হয়ে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। ১ জুলাই ধর্ষক মাসুদকে আদালতের মাধ্যমে শরীয়তপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

৭ জুলাই ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মাসুদের জামিন প্রার্থনা করে তার আইনজীবী। রাষ্ট্রপক্ষ মাসুদের জামিনের বিরোধীতা করে ৭ দিনের রিমান্ড দাবী করেন। কিন্তু আদালত মাসুদের জামিন নামঞ্জুর করেন এবং রিমান্ড আবেদটিও না মঞ্জুর করেন। ৮ জুলাই মাসুদের আইনজীবী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পূনরায় মাসুদের জামিন আবেদন করলে একজন নারী বিচারক অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ) মরিয়ম মুন মুঞ্জুরী ধর্ষক মাসুদকে জামিনে মুক্তির আদেশ প্রদান করেন।

ধর্ষক মাসুদ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর ধর্ষিতা মেয়েটির পরিবারকে মামলা তুলে নিতে নানাভাবে হুমকি দিতে থাকে। ফলে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিল মেয়েটির পরিবার। এরপর ১০ তারিখ দুপুরে জাজিরা থানায় ধর্ষিতা মেয়েটির বাবা এবং মামলার বাদী নিরাপত্তা চেয়ে একটি সাধারণ ডায়েরী করেন।

মাসুদের জামিন বাতিল হওয়ার পর ধর্ষিতা মেয়েটির বাবা ও মা জানান, কুদ্দুছ মৃধা নামে এক ব্যক্তি অপরাপর আরো আট-দশজন ব্যক্তিকে নিয়ে ৮ তারিখ রাতে আমার বাড়িতে গিয়ে দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢোকার চেষ্টা করে এবং আমাকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য নানাভাবে হুমকি দিতে থাকে। আমি তাদের ভয়ে আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরের ভিতর পালিয়ে থাকি। পূনরায় ১০ জুলাই কুদ্দুছ মৃধা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমাকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেয়। ফলে আমরা জাজিরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করি। আজ মাসুদের জামিন বাতিল হওয়ায় আমরা আদালতের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং মাসুদের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করছি।

::শেয়ার করুন::
Share on Facebook
Facebook
Share on Google+
Google+
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Print this page
Print
Email this to someone
email

মন্তব্য

comments