Saturday, 3rd June, 2023

দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে শরীয়তপুরের দুই প্রবাসীর মৃত্যু

চাঁদা না দেয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে শরীয়তপুরের দুই ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। এ সংবাদ পৌছানোর পর নিহত দুই ব্যবসায়ীর পরিবার, স্বজনসহ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতরা হলেন- শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার মহিষার ইউনিয়নের কাইছকড়ি গ্রামের মৃত শহর আলী মাঝির ছেলে উজ্জল মাঝি (৩১) ও নড়িয়া উপজেলার কাপাশপাড়া গ্রামের ইব্রাহিম মোল্যার ছেলে আলম মোল্যা (৩৫)।
নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, বেশ কয়েক দিন ধরে সেখানকার সন্ত্রাসীরা উজ্জল ও আলম মোল্যার কাছে চাঁদা দাবী করছিল। চাঁদা না দেয়ায় তাদেরকে সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করেছে। নিহতদের স্বজনরা দ্রুত নিহতদের মরদেহ ফিরে পেতে সরকারের কাছে দাবী জানিয়েছেন।
নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উজ্জল মাঝি দীর্ঘ ১১ বছর যাবত দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকেন। সেখানকার ক্যাপটাউন শহরে একটি মুদি দোকান দিয়ে ব্যবসা করতেন উজ্জল। উজ্জল ৫ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে সবার ছোট। ১১ বছরের মধ্যে বৈধ কাগজ না থাকায় সে বাড়ি আসতে পারেনি। প্রায় দেড়মাস পূর্বে টেলিফোনের মাধ্যমে শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার সিড্যা গ্রমের ফারুক বেপারীর মেয়ে ফারজানা আকতার সুরভীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দেশে ফিরে আনুষ্ঠানিকভাবে সুরভীকে তুলে আনার কথা ছিল। উজ্জল রোববার দক্ষিণ আফ্রিকার সময় রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টা ও বাংলাদেশী সময় রাত সাড়ে ১১ টায় তার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিল। এমন সময় সন্ত্রাসীরা এসে চাঁদা না পেয়ে তাকে পর পর দুটি গুলি করে। এতে সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
এ সময় উজ্জলের দোকান কর্মচারী একই জেলার নড়িয়া উপজেলার বিঝারী ইউনিয়নের কাপাশপাড়া গ্রামের ইব্রাহিম মোল্যার ছেলে দুই সন্তানের জনক আলম মোল্যা বাসায় রান্না করছিলেন। সন্ত্রাসীরা বাসায় ঢুকে আলম মোল্যাকেও মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করে। আলম মোল্যা দেড় বছর আগে জমি বিক্রি করে দক্ষিণ আফ্রিকায় যায়। সে তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন। তার মা নেই। বৃদ্ধ বাবা প্যারালাইজড হয়ে অচল অবস্থায় ঘরে পড়ে আছেন।
নিহত আলম মোল্যার স্ত্রী রুমাসহ আফসা নামের ৪ বছরের এক মেয়ে ও হানিফ নামে আড়াই বছরের এক ছেলে রয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকা স্বজনদের মাধ্যমে এ সংবাদ শোনার পর উভয় পরিবার ও তাদের স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। উজ্জলের বৃদ্ধ মা মরিয়ম বিবি কাঁদতে কাঁদতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। শুধু ছেলের জন্য আহাজারি করছেন। আলমের স্ত্রী রুমা ও বোন নাছিমার আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। বাবা ইব্রাহিম কথা বলতে পারছেন না। শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে বুক চাপড়িয়ে কাঁদছেন। পাড়া প্রতিবেশী ও আত্মীয় স্বজনেরা খবর পেয়ে নিহতদের বাড়ি এসে ভিড় করছেন। নিহতদের লাশ ক্যাপটাউন শহরের একটি হাসপাতালের হিমাগারে রয়েছে। আইনী প্রক্রিয়া শেষ করে তাদের উভয়ের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে আফ্রিকায় অবস্থানরত বাংলাদেশীরা নিহতদের পরিবারকে জানিয়েছেন।
নিহত উজ্জল মাঝির ভাবী পারভিন আকতার বলেন, আমার দেবর উজ্জল ১১ বছর যাবত দক্ষিণ আফ্রিকা থাকেন। সেখানে মুদি ব্যবসা করেন। বৈধ কাগজ না থাকায় বাড়ি ফিরতে পারছেন না। কাগজ করার জন্য প্রক্রিয়া চলছিল। কাগজ হাতে পেলেই বাড়ি আসবেন বলে দেড় মাস পূর্বে ফোনের মাধ্যমে তার বিয়ের কাবিন হয়েছে। তাকে সন্ত্রাসীরা চাঁদার জন্য গুলি করে হত্যা করেছে। আমরা সরকারের মাধ্যমে তার লাশটি ফিরে পেতে চাই।
নিহত আলম মোল্যার বোন নাছিমা বলেন, আমার একমাত্র ভাই আলম মোল্যা দেড় বছর পূর্বে আমার জমি বিক্রি করে বিদেশে গেছে। আমার ভাইকে সন্ত্রাসীরা বাসায় গিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে। এখন আমাদের উপায় কি? এ সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিল সে। এখন কিভাবে এরা বেঁচে থাকবে। কে দিবে তাদের টাকা পয়সা। কে করবেন তাদের দেখা শোনা। সরকারের কাছে আমাদের দাবী আমার ভাইয়ের লাশটা যেন দেশের মাটিতে দাফন করতে পারি।