আজ মঙ্গলবার | ১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ইং
| ৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২১ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী | সময় : সকাল ৮:১৫

মেনু

ভেদরগঞ্জে ১১ স্কুল ছাত্রীদের চুল কেটে দিলো শিক্ষক

ভেদরগঞ্জে ১১ স্কুল ছাত্রীদের চুল কেটে দিলো শিক্ষক

মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯
৭:৪২ পূর্বাহ্ণ
930 বার

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জোরপূর্বক ১১ ছাত্রীর চুল কেটে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষিকা ও দপ্তরীর বিরুদ্ধে। বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে এলাকাবসী। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী করেছেন অভিভাবক ও স্বজনরা।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে সোমবার অভিযোগের তদন্তে বিদ্যালয়ে পরিদর্শন করেছেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মশিউল আজম হিরক। দায়িদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের অবস্থিত ২৯ নং ডিএমখালী বোর্ড সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। গত বৃহস্পতিবার ওই বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনীর সাথি, মারিয়া, তাজরিন, ফাহমিদা, সুমাইয়া, শ্রাবন্তি, ইতি, ফারহানা, নাহিদা ও ফাতেমাসহ ১১ ছাত্রীর চুল এব্রু থেব্রু ভাবে কেটে দেয় বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরি জুমান। জুমান চুলকাটতে আসলে ছাত্রীরা বারবার নিষেধ করে কিন্তু প্রধান শিক্ষক কারেরী গোপ দাঁঁড়িয়ে থেকে জুমানকে চুল কাটতে হুকুম করে। জোরপূর্বক ছাত্রীদের চুল কেটে দেয় জুমান। এতে ছাত্রীরা কান্নাকাটি শুরু করে। আশপাশ থেকে অভিভাবকরা এগিয়ে এলে প্রধান শিক্ষক কাউকে বিদ্যালয়ে ঢুকতে দেয়নি। ছেলে দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী মেয়েদের চুল কেটে দিয়েছে এ খবর জানাযানি হওয়ায় লজ্জায় ভেঙ্গে পড়েছে ছাত্রীরা। কেউ কেউ বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের শাস্তি দাবী জানিয়েছেন।

ভূক্তভোগী ছাত্রী নাহিদা জানায়, আমার চুল অনেক বড় ছিল। আমি কাটতে বারবার নিষেধ করেছি। কিন্তু ম্যাডাম দপ্তরীকে কাটতে বলেছে দপ্তরী জোর করে আমার চুল কেটে দিয়েছে। আমি অনেক কান্না কাটি করেছি। যে ভাবে এ্যালোপাথারি চুল কেটেছে এখন পুরা চুল ফেলে দেয়া ছাড়া কোন উপায় নাই। আমি লজ্জায় স্কুলে যায়নি। আমি এর বিচার চাই।

ভূক্তভোগী ছাত্রী সাথি জানায়, আমরা কান্না করেছি। ম্যাডাম বলে মাথায় চুল থাকলে ব্রেণ খারাপ হয়ে যায়। উকুনে রক্ত খেয়ে ফেলে। তাই চুল কেটে দিয়েছে। এলোপাথারি চুল কেটেছে দপ্তরি। তাই আমার সব চুল ফেলে টাক হয়ে গেছি।

নাহিদার বাবা দেলোয়ার বেপারী বলেন, আমার মেয়ে বড় হয়ে গেছে। কিছু দিন পড়ে হাই স্কুলে যাবে। একজন পুরুষ ছেলে দিয়ে আমার মেয়ের চুল কাটার সাহস প্রধান শিক্ষক পেল কোথায়? চুল হল মেয়েদের অলংকার। এখন মেয়ে স্কুলে যায় না। ঘর থেকে লজ্জায় বের হয় না। আমি ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচার চাই।

স্থানীয় আব্দুর রহমান বলেন, একজন শিক্ষিকা কিভাবে ছেলে দপ্তরী দিয়ে এই বড় মেয়েদের চুল কাটার হুকুম দিতে পারে আমি বুঝিনা। চুল মেয়েদের সুন্দর্যের একটি অংশ। সে চুল গুলো যে ভাবে এব্রু থেব্রু ভাবে কেটেছে দেখলে যে কারো কষ্ট লাগবে। চুলের জন্য মেয়েরা যেভাবে কান্না করেছে তাতেও শিক্ষিকার মন গলেনি। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের অবশ্যই শাস্তি হওয়া উচিত। আমি তাদের শাস্তি চাই।

ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী জুমান বলেন, আমাকে প্রধান শিক্ষিকা চুল কাটতে বলেছে। আমি বিদ্যালয়ে থাকা কাচি দিয়ে চুল কেটেছি। আমার কোন দোষ নাই।
ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী গোপ বলেন, আমি মাস খানেক আগে মা সমাবেশে মেয়েদের চুল সেটিংস করে আসতে বলেছিলাম। কিন্তু ওরা আমার কথা বুঝে নাই। তাই আমরা উপস্থিত থেকে দপ্তরীকে দিয়ে শিক্ষার পরিবেশ সুন্দর করতে মেয়েদের চুল কেটেছি। এ নিয়ে কিছু লোক প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মাহাবুর রহমান শেখ বলেন, আমি বিষয়টি জানার সাথে সাথে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নিয়ে অবহিত করতে বলেছি।

শরীয়তপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। বিষয়টি দু:খ জনক। প্রধান শিক্ষক জোরপূর্বক ছাত্রীদের চুল কাটতে পারেন না। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

::শেয়ার করুন::
Share on Facebook
Facebook
Share on Google+
Google+
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Print this page
Print
Email this to someone
email

মন্তব্য

comments




  • সর্বশেষ প্রকাশিত  
  • সর্বাধিক পঠিত  

error: Content is protected !!