শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২০ ইং, ২০ আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী
শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২০ ইং, ২০ আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী
শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২০ ইং

নড়িয়ায় আকস্মিক পদ্মার ভাঙন, তীর রক্ষা বাঁধের ১০০ মিটার ধ্বস

নড়িয়ায় আকস্মিক পদ্মার ভাঙন, তীর রক্ষা বাঁধের ১০০ মিটার ধ্বস

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মা নদীর আকস্মিক ভাঙনে তীর রক্ষা বাঁধের ১শ মিটার এলাকা জুড়ে ধ্বসে পড়েছে। এতে একটি মসজিদ, বেশ কয়েকটি বসত বাড়িসহ গাছপালা নদীতে বিলিন হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে নড়িয়া উপজেলার সাধুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে আশপাশে বাসিন্দাদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। রাতেই আতংকিত হয়ে অন্তত ৫০টি বসত বাড়ি অন্যত্র সড়িয়ে নিয়েছে ভাঙন কবলিতরা।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, এক সপ্তাহ যাবৎ পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারনে নদীতে পানি বেরেছে । এতে নড়িয়া রক্ষা বাধেঁর ১শ মিটার অংশ ধ্বসে পড়েছে।

কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ জানান, সন্ধ্যারদিকে হঠাৎ ৩০ মিটার পাশে ১শ মিটার এলাকা নীচের দিকে দেবে গেছে। এতে একটি মসজিদ, পাকা বাড়িসহ গাছপালা নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। এখনো থেমে থেমে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। আশপাশের বাসিন্দাদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। আতংকিত হয়ে মানুষ ঘর বাড়ি আসবাপত্র অন্যত্র সড়িয়ে নিচ্ছে।

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়ন্তি রুপা রায় বলেন, ঘটনার সাথে সাথে আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদে সড়িয়ে নেয়ার কাজ শুরু করেছি। ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের কাজ চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন ডাম্পিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কৃঞ্চ সরকার জানান, আমরা নিয়মিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করি। কিন্তু কোথাও কোন ভাটল দেখি নাই। হঠাৎ সন্ধ্যায় প্রায় ১শ মিটার জায়গায় ধ্বস দেখা দিয়েছে। খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনা স্থলে পৌচেছি। জরুরী ডাম্পিং শুরু করা যায় কিনা- সে চেষ্টা করা হচ্ছে। এখনো থেমে থেমে ভাঙন চলছে। ঘূর্ণি সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছর নড়িয়ার আট কিলোমিটার জুরে ব্যাপক ভাঙন ছিল। ভাঙনে ওই এলাকার সাড়ে ছয় হাজার পরিবার গৃহহীন হয়। নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ অসংখ্য স্থাপনা বিলিন হয়ে যায়। ভাঙন ঠেকাতে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয় এক হাজার ৯৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্পর অনুমোদন করে। পানি উন্নয়ন বোর্ড নৌবাহীনির প্রতিষ্ঠান খুলনা শীপইয়ার্ড লিমিটেডকে ওই কাজের কার্যদেশ প্রদান করেন। যার মধ্যে ৫৫২ কোটি টাকা ব্যায়ে নড়িয়ার সুরেশ^র হতে জাজিরার কায়ুম খার বাজার পর্যন্ত আট দশমিক নয় কিলোমিটার অংশে নদীর তীর রক্ষার কাজ। বাকি টাকা দিয়ে নদীর চরখনন করা হবে। গত বছর ১২ ডিসেম্বর ওই প্রকল্পের নদীর তীর রক্ষার কাজ শুরু করা হয়।

মন্তব্য

comments

শরীয়তপুর নিউজে প্রকাশিত কোন তথ্য, ছবি, রেখচিত্র, আলোকচিত্র ও ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যাবহার করা নিষেধ!!


error: Content is protected !!