আজ বুধবার| ২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ইং| ১৬ মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শরীয়তপুরে আ’লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৩০

মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯ | ৮:৪৯ পূর্বাহ্ণ | 3415 বার

শরীয়তপুরে আ’লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৩০

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিতলিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৩০ আহত হয়েছেন।

সোমবার (১৪ অক্টোবর) সকালে ইউনিয়নের সমিতির হাট ব্রিজ সংলগ্ন এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতরা শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল ও মাদারীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আহতদের মধ্যে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন- জামাল খান (৪০), নেছার বেপারী (৩৫), মফেজ সরদার (৪৫), মজিবর সরদার (৫৫), ইমান ফরাজি (৩৫), জুলহাস খান (৫৫), খবির বাঘা (৫০), রেহানা বেগম (৩৫), স্বর্ণা (১৪), দবির খান (৪০) ও ওমর খানকে (৭০)।

মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন অপরপক্ষের- শফিক বেপারী (৩০), মান্নান বেপারী (৫০), এসকান খান (৪০), হবি হাওলাদার (৩৮), মজিবর হাওলাদার (৭০) দৌলত খান (৬৫), সুজন হাওলাদার (২৫) সুমন হাওলাদার (৩০) হাবিব হাওলাদার (৩৫), বাদশা সরদার (৪০), জিয়া হাওলাদার(৩৮)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও চিতলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম হাওলাদার ও চিতলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাস্টার হারুন হাওলাদারের পক্ষের লোকজনের মধ্যে গত সংসদ নির্বাচনের পর থেকে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এরই জের ধরে দু’পক্ষের মধ্যে একাধিকবার হামলা-মামলার ঘটনা ঘটেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে স্থানীয় সমিতির হাটে মাছ কেনাকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের লোকজন কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এক পক্ষ আরেক পক্ষের ওপর হামলা চালায় এবং ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ২৮ জন আহত হয়েছেন। আব্দুস সালাম হাওলাদার পক্ষের আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতাল ও মাস্টার হারুন হাওলাদারের পক্ষের আহতদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে পালং মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ ঘটনায় উভয়পক্ষ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানা গেছে।

মাস্টার হারুন বাংলানিউজকে বলেন, গতকাল একটি মামলায় সালামের লোকজন জামিনে বেড়িয়ে এসে রাতে সবাই এক জায়গায় জড়ো হয়ে খিচুড়ি খেয়ে আনন্দ করে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী সোমবার সকালে তারা আমাদের পক্ষের লোকজন যারাই সমিতির হাটে গিয়েছেন তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের পক্ষের প্রায় ১৫ জন আহত হয়েছেন। আমরা এ হামলার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে সালাম হাওলাদার বাংলানিউজকে বলেন, সোমবার সকালে আমার সমর্থকরা মাছ কেনার জন্য সমিতির হাটে গেলে হারুনের লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমাদের লোকজনের ওপর হামলা করে। এতে আমাদের প্রায় ১৩ জনকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা মামলা দায়ের করবো। হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চিতলিয়া ইউনিয়নে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ঘের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের বেশকিছু লোক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ ঘটনা তদন্ত চলছে। অভিযোগের ভিত্তিতে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

:: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন::
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on Google+
Google+
Email this to someone
email
Print this page
Print

মন্তব্য

comments


সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  
ফেইসবুক পাতা
error: Content is protected !!