আজ সোমবার, ৮ মার্চ, ২০২১ ইং, ২৩ ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৩ রজব, ১৪৪২ হিজরী

যুক্তরাষ্ট্রে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আড়াই কোটি ছাড়ালো

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আড়াই কোটি ছাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। আক্রান্তদের মধ্যে দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ৪ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ জনের। শনিবার স্থানীয় সময় বিকালে দেশটি এই আশঙ্কাজনক মাইলফলক পার হয়েছে বলে জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগৃহীত তথ্য অনুসারে, রবিবার যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা আড়াই কোটি ছাড়িয়েছে। কোভিড ট্র্যাকিং প্রজেক্টের তথ্য মতে, থ্যাংকসগিভিং ও বড়দিনের ছুটির পর আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। যদিও গত কয়েক মাস ধরেই তা ওঠানামা করছিল। এই মাসের শুরুতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে দৈনিক শনাক্ত কমতে থাকায় ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যাও কমতে থাকে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দৈনিক মৃতের সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেন শপথ নেওয়ার সময়ও একই ধারা অব্যাহত ছিল। গত সপ্তাহে করোনা মোকাবিলায় নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে টিকাদান ও পরীক্ষা বাড়ানো।

মার্কিন নাগরিকদের মাস্ক পরার আহ্বান জানিয়েছেন বাইডেন। একই সঙ্গে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে সতর্ক করেছেন তিনি। দেশটির সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) আশঙ্কা করছে, ভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্টের কারণে সংক্রমণ দ্রুত ছড়াতে পারে। মার্কিন শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউচিও ভয়াবহ গুরুতর পরিস্থিতি বলে সতর্ক করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই সংখ্যাটি বিস্ময়কর হলেও প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হবে আর এতে ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে দেশটির ব্যর্থতার ব্যাপকতাও প্রতিফলিত হয়েছে। সরকারি এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় প্রতি ১৩ জনের মধ্যে একজন বা জনসংখ্যার সাত দশমিক ছয় শতাংশ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত।

আড়াই কোটি আক্রান্তের সংখ্যাকে ‘অবিশ্বাস্য মাপের ট্র্যাজেডি’ বলে বণর্না করেছেন জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষক কেইটলিন রিভার্স, করোনাভাইরাস মহামারিকে ইতিহাসের অন্যতম মারাত্মক জনস্বাস্থ্য সংকট বলে অভিহিত করেছেন তিনি।

আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসজনিত মৃত্যুর সংখ্যাও অপ্রতিরোধ্য গতিতে বাড়ছে। ইতোমধ্যেই তা চার লাখ ১৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এই হিসাব অনুযায়ী, কোভিড-১৯ এ দেশটির প্রায় প্রতি ৮০০ জনের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

গত বছরের জানুয়ারিতে প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হয়েছিল, তারপর আক্রান্তের সংখ্যা এক কোটিতে পৌঁছতে নয় মাসেরও বেশি লেগেছিল। ২০২০ সালের শেষ দিনে এসে মাত্র সাত সপ্তাহের মধ্যে আরও এক কোটি আক্রান্ত যুক্ত হয়ে শনাক্ত মোট রোগীর সংখ্যা দুই কোটি ছাড়িয়ে যায়। আর সেখান থেকে আড়াই কোটিতে পৌঁছতে প্রায় তিন সপ্তাহ বেশি লেগেছে।

জানুয়ারির শুরুতে কিছুটা কমলেও তারপর থেকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায়ে দৈনিক তিন লাখেরও বেশি রোগী শনাক্তের রেকর্ড হয়েছে। ওই সময় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল, তারপর থেকে কমতে শুরু করেছে।

এখন বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, করোনাভাইরাসের অতিসংক্রামক নতুন ধরনের আবির্ভাবে অগ্রগতির যে কোনো লক্ষণ বিফলে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছে, ব্রিটেনে প্রথম শনাক্ত হওয়া ভাইরাসের নতুন ধরন মার্চের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সংক্রমণের প্রধান উৎস হয়ে উঠতে পারে, এতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ফের বৃদ্ধি পেতে পারে।

মন্তব্য

comments

শরীয়তপুর নিউজে প্রকাশিত কোন তথ্য, ছবি, রেখচিত্র, আলোকচিত্র ও ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যাবহার করা নিষেধ!!