আজ সোমবার, ৮ মার্চ, ২০২১ ইং, ২৩ ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৩ রজব, ১৪৪২ হিজরী

পঞ্চাশের আগেই তিন উইকেট নেই উইন্ডিজের

কিজর্ন ওটলে ও সুনীল অ্যামব্রিসকে ৩০ রানের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান ফেরান। ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের দুই ওপেনারকে হারানোর পর সতর্ক ব্যাটিং করছিল। তবে দলীয় স্কোর পঞ্চাশ ছোঁয়ার আগে তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটেছে। মেহেদী হাসান মিরাজ তার তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে কাইল মায়ার্সকে (১১) এলবিডাব্লিউ করেন। ওই ওভারটি মেডেন উইকেট নেন বাংলাদেশি স্পিনার।

২৯৮ রানের লক্ষ্যে নেমে ১৪ ওভারে ৩ উইকেটে ৪৭ রান করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এনক্রুমাহ বোনার ১৬ রানে খেলছেন, পাঁচ বল খেলে রানের খাতা খোলেননি অধিনায়ক জেসন মোহাম্মদ।

দুই ওপেনারকে ফেরালেন মোস্তাফিজ

নিজের প্রথম ও তৃতীয় ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ওপেনারকে ফেরালেন বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। প্রথমে কিজর্ন ওটলে (১) উইকেটকিপার মুশফিকুর রহিমের ক্যাচ বানান তিনি। পরে টানা তৃতীয় ম্যাচে সুনীল অ্যামব্রিসকে (১৩) মাঠছাড়া করলেন মোস্তাফিজ। এলবিডাব্লিউ হন উইন্ডিজ ওপেনার।

৭ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২ উইকেটে ৩৬ রান করেছে। ক্রিজে আছেন এনক্রুমাহ বোনার ও কাইল মায়ার্স। তাদের লক্ষ্য ২৯৮ রান।

চার ফিফটিতে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ

আগের দুই ম্যাচে পরে ব্যাট করে ব্যাটিং সামর্থ্যের পরীক্ষা দিতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে শেষ ওয়ানডেতে দুর্দান্ত এক ব্যাটিং প্রদর্শনী হলো তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে। চার সিনিয়র ব্যাটসম্যানের প্রত্যেকে হাফসেঞ্চুরি করেছেন। মজার ব্যাপার সাকিব ছাড়া বাকি তিনজনই করেছেন ৬৪ রান। সাকিব ৫১ রানে আউট হন। মাহমুদউল্লাহ ছিলেন অপরাজিত। তামিম ও সাকিব তৃতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ ৯৩ রানের জুটি গড়েন। পঞ্চম উইকেটে মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিক ক্রিজে থেকে যোগ করেন ৭২ রান।

চার ব্যাটসম্যানের হাফসেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৯৮ রানের বড় লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে। আজ জিতলেই ১৪ বার প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশের কৃতিত্ব গড়বে টাইগাররা।

চার ফিফটিতে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ

দলের চার সিনিয়র ব্যাটসম্যান খেলেছেন দুর্দান্ত। প্রথম সাকিবকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরেন তামিম ইকবাল। দুজনের ব্যাট থেকেই আসে ফিফটি। এরপরে মুশফিকও হাঁকান ফিফটি। শেষ দিকে মাহমুউল্লাহর ঝোড়ো ফিফটিতে ২৯৭ রান করে বাংলাদেশ। মাত্র ৪৩ বলে ৬৪ রান করে মাহমুদউল্লাহ। তার সঙ্গে সাইফউদ্দিন অপরাজিত ছিলেন ৫ রানে।

মুশফিকের ৩৯তম ফিফটি

৪৭ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৯তম ফিফটির দেখা মুশফিকুর রহীম। তামিম-সাকিব যেখানে ধীরগতির ইনিংস খেলেছে সেখানে মুশফিকের ইনিংসটি ছিল দ্রুতগতির। মাহমুদউল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে রান তুলছেন দ্রুত। দুই সতীর্থ তামিম-সাকিবের মতো মুশফিকও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ৫৫ বলে ৬৪ রান করে ফেরেন সাজঘরে। তার ইনিংসটি সাজানো ছিল ৪টি চার ও দুটি ছয়ের মারে।

দুইশ পার করলো বাংলাদেশ

৪০ ওভার ৩ বলে ২০০ রানের ঘরে ঢোকে বাংলাদেশ। রেমন রেইফারের বলে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সিঙ্গেলে ২০০ রান স্পর্শ করে লাল সবুজের দল। এর আগে ১০০ রান করতে টাইগাররা খেলে ২২.২ ওভার।

ফিফটির পরেই সাজঘরে সাকিব

নির্বাসন কাটিয়ে ফেরার পর বল হাতে জাদু দেখিয়ছেন। কিন্তু ব্যাট হাতে পারছিলেন না রান করতে। বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে ছিলেন রান খরাতে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নামতেই দেখা যাচ্ছে ভিন্ন সাকিবকে। উইন্ডিজ সিরিজের প্রথম ম্যাচে আউট হন ১৯ রান। দ্বিতীয় ম্যাচে ৪৩ রান করে ছিলেন অপরাজিত। আর তৃতীয় ম্যাচেই দেখা পেলেন ক্যারিয়ায়ের ৪৮তম ফিফটি। কিয়ন হার্ডিংয়ের বলে সিঙ্গেল নিয়ে ৭৮ বলে হাফসেঞ্চুরির দেখা পান সাকিব।

তবে ফিফটির পর ইনিংস বড় করতে পারেননি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। ফিফটির পর মাত্র এক রান যোগ করেই রেমন রেইফারের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন সাজঘরে। ৮১ বলে ৩টি চারের মারে ৫১ রান আসে সাকিবের ব্যাট থেকে।

ফিফটির পর সাজঘরে তামিম

ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৪৯তম ফিফটি করার পর চওড়া হয় তামিমের ব্যাট। হাফসেঞ্চুরির ওভারেই জেসন মোহাম্মদকে হাঁকান ছক্কা। ৭০ বলে ফিফটি করা তামিম শেষ পর্যন্ত ৮০ বলে ৬৪ রান করে ফেরেন সাজঘরে। আলঝারি জোসেপের বলে মিড উইকেটে তামিম ধরা পড়েন আকিল হোসেনের হাতে। তার ৬৪ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৩টি চার ও ১টি ছয়ের মারে। তামিমের আউটের মাধ্যমে তৃতীয় উইকেটে সাকিবের সঙ্গে গড়া ৯৩ রানের জুটি ভাঙে।

তামিমের ৪৯তম ফিফটি

জেসন মোহাম্মদের বলে সিঙ্গেল নিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৪৯তম ফিফটি করলেন বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক তামিম ইকবাল। হাফসেঞ্চুরি করতে তিনি খেলেছেন ৭০ বল। এর আগে দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও তার ব্যাট থেকে হাফসেঞ্চুরি আসে।

হাল ধরেছেন তামিম-সাকিব

আগে ব্যাট করতে নেমে ৩৮ রানে দুই উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। এরপরেই ক্রিজে থাকা তামিম ইকবাল সাকিব আল হাসানকে সঙ্গে নিয়ে খেলার হাল ধরেন। এই দুইজনের ব্যাটে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। তৃতীয় উইকেটের জুটিতে দুজনের ব্যাট থেকে ইতিমধ্যে পঞ্চাশোর্ধ রান এসেছে। আকিল হোসেনের করা ২২.২ ওভারে সাকিব এক রান নিলে দলের রান তিন অঙ্কের ঘর স্পর্শ করে। প্রথম বলেই জীবন পাওয়া সাকিবকে এখন দেখা যাচ্ছে সাবলীল।

প্রথম বলেই জীবন পেলেন সাকিব

শান্ত ফিরে যাওয়ার পর ক্রিজে আসেন সাকিব আল হাসান। কাইল মায়ার্সের বলেই মায়ার্সের হাতেই জীবন পান এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। মিড উইকেটে খেলতে চেয়েছিলেন সাকিব, কিন্তু বল ব্যাটের কানায় লেগে বল যায় মায়ার্সের দিকে। কিন্তু মাথার ওপর দিয়ে যাওয়াতে লাফিয়েও মায়ার্স বল মুঠোবন্দি করতে ব্যর্থ হওয়ায় বেঁচে যান সাকিব।

ব্যর্থতার বৃত্তে শান্ত

সিরিজ শুরুর আগেই শিরোনামে এসেছিলেন বাঁ হাতি ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্ত। সাকিব আল হাসানকে সরিয়ে তাকে ব্যাটিং অর্ডারে তিন নম্বরে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। প্রথম ম্যাচে ১, দ্বিতীয় ম্যাচে ১৭ রানের পর আজ তৃতীয় ম্যাচে সাজঘরে ফেরেন ২০ রানে। ৩০ বলে ৩টি চারের মারে এই রান আসে তার ব্যাট থেকে। কাইল মায়ার্সের বলে এলবিডব্লিউর শিকার হন শান্ত। রিভিউ নিলেও বল উইকেটে থাকায় কোনো লাভ হয়নি। তিন ম্যাচে শান্তর ব্যাট থেকে রান আছে ৩৮।

শুরুতেই লিটন সাজঘরে

খুব স্বাচ্ছন্দ্যে ছিলেন না লিটন। ২২ গজে ব্যাটের রসায়ন জমছিল না। ইনিংসের প্রথম ওভারেই তার উইকেট নিলেন আলঝারি জোসেফ। ডানহাতি পেসারের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন লিটন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পঞ্চম ডাকের স্বাদ পেলেন এ ব্যাটসম্যান। তার আউটের সময় বাংলাদেশের রান ১ উইকেটে ১। এর আগে প্রথম দুই ওয়ানডেতে তার রান ছিল ১৪ ও ২২।

টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক জেসন মোহাম্মদ বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

পরিবর্তন: বাংলাদেশ দলে দুইটি আনা হয়েছে। রুবেল হোসেন ও হাসান মাহমুদের জায়গায় এসেছেন সাইফ উদ্দিন ও তাসকিন আহমেদ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলেও আনা হয়েছে দুইটি পরিবর্তন। বাদ পড়েছেন জশুয়া ডি সিলভা ও আন্দ্রে ম্যাকক্যার্থি। দলে ঢুকেছেন জামহার হ্যামিলটন ও কিওর হারডিক। ২০১৭ সালের অক্টোবরের পর প্রথম ওয়ানডে খেলতে নেমেছেন তাসকিন আহমেদ।

বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাশ, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সৌম্য সরকার, মোস্তাফিজুর রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, সাইফ উদ্দিন ও তাসকিন আহমেদ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল: সুনিল অ্যামব্রিস, জাহমার হ্যামিলটন, কিয়ন হার্ডিং, জেসন মোহাম্মদ, রভম্যান পাওয়েল, এনক্রুমাহ বোনার, কাইল মায়ারস, জর্ন ওটলে, রেয়মন রেইফার, আকিল হোসেন ও আলঝারি জোসেফ।

‘১০ পয়েন্ট’ চায় দুই দলই

চলতি ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বকাপ সুপার লিগের যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে বাংলাদেশ ২০ পয়েন্ট পেয়েছে। চট্টগ্রামে তৃতীয় ওয়ানডে জিতে আরও ১০ পয়েন্ট পেতে মুখিয়ে বাংলাদেশ। ছাড় দিতে নারাজ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম দুই ম্যাচে ২০ পয়েন্ট হারালেও খালি খাতে ফিরতে চায় না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই দলের-ই চোখ বিশ্বকাপ সুপার লিগের ১০ পয়েন্টে। শেষ হাসি কে হাসে সেটিই দেখার।

১৪তম হোয়াইটওয়াশের হাতছানি

বাংলাদেশ প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করেছে ১৩ বার। এর মধ্যে ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকেও একবার ধবলধোলাই করেছিল। তাদেরকে একই স্বাদ দেওয়ার অপেক্ষায় তামিমের দল।

মন্তব্য

comments

শরীয়তপুর নিউজে প্রকাশিত কোন তথ্য, ছবি, রেখচিত্র, আলোকচিত্র ও ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যাবহার করা নিষেধ!!