আজ শনিবার, ১৯ জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৫ আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৮ জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

করোনা সংক্রান্ত ১০ টেস্টের ফি নির্ধারণ, না মানলে শাস্তি

সব ধরনের বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অক্সিজেন ও করোনা সম্পর্কিত ১০টি পরীক্ষার নতুন মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নির্ধারিত মূল্যের বেশি কোনো রোগীর কাছ থেকে নিলে সংশ্লিষ্ট সেই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কি শাস্তি হবে তা জানা যায়নি।

করোনা টেস্টের মূল্য নির্ধারণ করে, সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের উন্মুক্ত স্থানে টানানোর পদক্ষেপ নিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে আদেশ দেন হাইকোর্ট। আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. মো. ফরিদ হোসেন মিঞার স্বাক্ষরে মূল্য নির্ধারণ করে গত ২১ জানুয়ারি একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। দেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে নতুন মূল্য তালিকা কার্যকর করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা।

নতুন নির্দেশনায় অক্সিজেন সিলিন্ডার ঘণ্টায় ২ থেকে ৫লিটার ব্যবহারের জন্য ১০০টাকা, ৬ থেকে ৯ লিটারের জন্য ১২৫টাকা এবং ১০ থেকে ১৫লিটারের জন্য ১৫০টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেমে (জেনারেটর বেইজড) ঘণ্টায় ২ থেকে ৫ লিটার অক্সিজেন ব্যবহারের জন্য ১২০টাকা, ৬ থেকে ৯ লিটারের জন্য ৩০০ টাকা এবং ১০ থেকে ১৫ লিটারের জন্য ৩৫০টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেমে (লিক্যুইড অক্সিজেন ট্যাংক বেইজড) ঘণ্টায় ২ থেকে ৫লিটার অক্সিজেন ব্যবহারের জন্য ১২০টাকা, ৬ থেকে ৯লিটার ব্যবহারের জন্য ২৫০ টাকা এবং ১০ থেকে ১৫ লিটার ব্যবহারের জন্য ৩০০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেমে হাইফ্লো নেজাল ক্যানোলা দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০লিটার অক্সিজেন ব্যবহারের মূল্য ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অক্সিজেন ছাড়াও করোনা সম্পর্কিত জরুরি ১০টি পরীক্ষার মূল্যও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। ‘সিবিসি’ (কমপ্লিট ব্লাড টেস্ট) ৪০০ থেকে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকা, ‘এলএফটি’ (লাং ফাংশন টেস্ট) ৯৫০ থেকে একহাজার ৬০০ টাকা, ‘ক্রিয়েটিনিন’ ৩০০ থেকে ৬৫০টাকা, ‘ইলেক্ট্রোলাইট’ ৮৫০ থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৫০ টাকা। ‘ডি-ডাইমার’ পরীক্ষার মূল্য সর্বনিম্ন ১১০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা, ‘ফেরিটিন’ ১ হাজার থেকে ২২০০ টাকা, ‘প্রোক্যালসিটোনিন’ ১৫০০ থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা, ‘সিটি স্ক্যান’ (চেস্ট) ৫ হাজার থেকে ১৩ হাজার, ‘বুকের এক্স-রে’ (অ্যানালগ) ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ‘বুকের এক্স-রে’ (ডিজিটাল) ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্ধারিত তালিকার বেশি রোগীর কাছ থেকে কোনো বেসরকারি হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার আদায় করলে, কী ধরনের শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে- জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই পরিচালক বলেন, আমরা সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নতুন মূল্য তালিকা পাঠিয়েছি। রোগীদের চোখের সামনে সে তালিকা প্রদর্শনের জন্য বলা হয়েছে। আমাদের টিম নিয়মিত তদারকি করছে। কেউ বেশি টাকা নিচ্ছে-এরকম অভিযোগ পাওয়া গেলে আমরা প্রথমে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ জানাবো। এরপরও তারা না মানলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করবো। মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেবো, সে হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

মন্তব্য

comments

শরীয়তপুর নিউজে প্রকাশিত কোন তথ্য, ছবি, রেখচিত্র, আলোকচিত্র ও ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যাবহার করা নিষেধ!!