আজ সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১২ আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯ সফর, ১৪৪৩ হিজরি

সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য নিরলস কাজ করে চলেছেন শরীয়তপুরের ইউএনও মনদীপ ঘরাই

করোনার ভয়াল গ্রাস যেন আঁকড়ে ধরেছে আমাদের এই সোনার বাংলাকে। ধমকে গিয়েছে সব কিছু স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। করোনার এই ভয়াল থাবা রুখতে এবং সংক্রমণের বিস্তার থেকে রক্ষার লক্ষ্যে চলমান রয়েছে সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন। চলমান এই কঠোর লকডাউন শতভাগ বাস্তবায়নের জন্য শরীয়তপুর জেলার সদর উপজেলায় দিবারাত্রি নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনদীপ ঘরাই।

মনদীপ ঘরাই খুব বেশিদিন হয়নি শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেছেন কিন্তু তার কর্মদক্ষতা, বিভিন্ন চমকপ্রদ ও মানবিক কর্মকান্ডের মধ্যমে অতি অল্প সময়েই স্থান করে নিয়েছেন শরীয়তপুর সদর উপজেলা বাসীর হৃদয়ের মনিকোঠায়।

করোনার প্রকোপ মোকাবেলায় যে লকডাউন ঘোষনা করা হয়েছে সে লকডাউন বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষিত যে বিধিনিষেধ গুলো দেওয়া হয়েছে তা শরীয়তপুর সদর উপজেলার সমগ্র এলাকায় শতভাগ বাস্তবায়নের জন্য প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত শরীয়তপুর সদর উপজেলার একপ্রাপ্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে চলেছেন ইউএনও মনদীপ ঘরাই। যার মাঝে নেই কোন ক্লান্তি, সরকারের অর্পিত দায়িত্ব শতভাগ বাস্তবায়নই যার মূল লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্যে সফলতার সহিত বাস্তবায়নের ফলেই ইতিমধ্যে সদর উপজেলা সহ সমগ্র জেলায় পরিচিত লাভ করেছেন একজন দক্ষ, চৌকস, কর্মঠ ও মানবিক কর্মকর্তা হিসেবে।

লকডাউন শতভাগ বাস্তবায়ন সহ করোনার সংক্রমণ যাতে ব্যাপন আকারে ছড়িয়ে পড়ছে না পারে সেই কারনে ইউএনও মনদীপ ঘরাই তার বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটিয়ে ইতিমধ্যে শরীয়তপুর সদর উপজেলায় কয়েকটি চমকপ্রদ কর্মকান্ড সফলতার সাথে শেষ করতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি শরীয়তপুর শহরের পালং বাজারে অবস্থিত প্রধান মাছ বাজারের চিত্রই তার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পাল্টে দিয়েছেন। সমগ্র মাছ বাজারটি তিনি রশি দিয়ে আবদ্ধ করে দিয়েছে। মাছ বাজারে প্রবেশের জন্য একটি আর বের হওয়ার জন্য একটি মোট দুটি পথ রেখেছেন। যে মাছ বাজারে সব সময় ২০০ থেকে ২৫০ লোক একসাথে মাছ ক্রয় করার উদ্দেশ্য প্রবেশ করতো সেই মাছ বাজারে তিনি একসাথে ২০জন ক্রেতা প্রবেশ করার ব্যবস্থা করেছেন। প্রবেশের পথে ক্রেতারা লাইন দিয়ে সারিবদ্ধ ভাবে দাড়িয়ে আছে, একজন বের হচ্ছে আবার একজন বাজারের ভিতরে প্রবেশ করছে এভাবেই সর্বোচ্চ ২০ জন ক্রেতা মাছ বাজারের ভিতরে অবস্থান করতে পারবে এমন ব্যবস্থা তিনি করেছেন। যার ফলে কারো সাথে কারো স্পর্শ লাগার কোন সম্ভবনা নেই। সেই সাথে প্রতিটি বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়ই মাস্ক পরিহিত অবস্থায় থাকতে হবে নইলে ক্রেতা বাজারে প্রবেশ করতে পারবে না আর বিক্রেতাও মাছ বিক্রি করতে পারবে না।

তিনি আরেকটি চমৎকার কাজ করেছেন তা হলো, শরীয়তপুর সদর উপজেলার সবচেয়ে বৃহৎ গরুহাট হলো মনোহর বাজার গরু হাট। এ হাটে প্রতি সোমবার অনেক গরু আমদানি হয়। কিছুদিন পূর্বে ঈদুল আজহা উদযাপন হয়েছে। সে উপলক্ষে ঐ হাটে ঈদের পূর্বের কয়েক সোমবার বহু গরু আমদানি হয়েছে। তিনি এখানেও মাছ বাজারের মতো একই পন্থা অনুসরণ করেছেন এবং স্বাস্থ্য বিধি নিশ্চিত করেছেন। তার এই চমৎকার উদ্যোগ জেলাব্যাপী প্রশংসার ঝড় তুলেছে।

এছাড়াও ইউএনও মনদীপ ঘরাই তার সকল কাজে জেলা প্রশাসক মোঃ পারভেজ হাসান এর নির্দেশনা ও পরামর্শ অনুসরন করে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যার, পুলিশ আনসার সহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সাথে সদর উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে অভিযান সহ লকডাউন শতভাগ বাস্তবায়নের জন্য নিরলস কাজ করে চলেছেন।
শরীয়তপুর সদর উপজেলা বাসীর নিকট এক ভরসা ও আস্থার নাম ইউএনও মনদীপ ঘরাই।

মন্তব্য

comments

শরীয়তপুর নিউজে প্রকাশিত কোন তথ্য, ছবি, রেখচিত্র, আলোকচিত্র ও ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যাবহার করা নিষেধ!!