আজ রবিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১ কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১০ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি
Home » টপ »

সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলার আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় সাংবাদিকদের ক্ষোভ

শরীয়তপুর পৌর শহরের পালং স্কুল সংলগ্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে সাংবাদিক রোকনুজ্জামান পারভেজের উপর সন্ত্রাসী হামলা করে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামী করে পালং মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সাথে সরাসরি জড়িত আসামীরা হলেন, শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর পালং গ্রামের নাজমুল হাসান, নাইমুল হাসান নিলয়, হৃদয় ও রিফাত।
এই ঘটনার ৪৮ ঘন্টা পার হয়ে গেলেও হামলাকারী সন্ত্রাসীদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে ২২ সেপ্টেম্বর বুধবার সকাল ৯টা থেকে শরীয়তপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করতে শুরু করে জেলায় কর্মরত সাংবাদিকগণ। পরবর্তীতে সকাল ১০টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে বসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে সাংবাদিকরা।
অবস্থান কর্মসূচীর ডাকে শরীয়তপুর প্রেসক্লাব, শরীয়তপুর ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন, শরীয়তপুর অনলাইন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন সহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের ব্যানারে সাংবাদিকরা অবস্থান করে। এই সময় সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবীতে শ্লোগান তোলা হয়।
সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবীতে বক্তব্য রাখেন, শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি অনল কুমার দে, সহ-সভাপতি, মোঃ হাবিবুর রহমান হাবীব, শেখ খলিলুর রহমান, প্রথম আলো প্রতিনিধি সত্যজিৎ ঘোষ, শরীয়তপুর ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শহিদুজ্জামান খান, সহ-সভাপতি মাহাবুব রহমান, ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রতিনিধি নুরুল আমিন রবিন, ডিবিসি প্রতিনিধি বিএম ইশ্রাফিল, যমুনা টিভি প্রতিনিধি কাজী মনিরুজ্জামান প্রমূখ।
সাংবাদিক নেতারা বক্তব্যে বলেন, এটিএন বাংলা, এটিএন নিউজ ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের শরীয়তপুর প্রতিনিধি এবং শরীয়তপুর ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের নির্বাচিত সভাপতি রোকনুজ্জামান পারভেজ ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসেছিলেন। তার প্রতিষ্ঠানের সামনে উল্লেখিত সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা এক নারীকে পারপিট করতে থাকে। ওই নারী জীবন বাঁচাতে পারভেজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিলে সেখানেও সন্ত্রাসীরা মারধর করে। একজন সাংবাদিক হিসেবে সেই দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করায় সন্ত্রাসীরা পারভেজকেও মারধর করে ক্যামেরা ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা করে। এই ঘটনায় মামলা হলেও ৪৮ ঘন্টায় পুলিশ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির এই সময়ে পুলিশ চাইলে এক ঘন্টায় আসামীদের গ্রেফতার করতে পারত। পুলিশ যতক্ষণে আসামীদের গ্রেফতার করতে না পারবে ততক্ষণ আমরা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করব।
সাংবাদিকদের অবস্থান কর্মসূচির শুরু থেকেই পালং মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ আক্তার হোসেন সহ পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ আসামী গ্রেফতারের বিষয়ে আশ্বস্ত করে অবস্থান কর্মসূচি থেকে সাংবাদিদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। সাংবাদিকরা তাদের অবস্থানে অনর থাকায় বেলা সারে ১১টার দিকে পুলিশ সুপার এস.এম. আশরাফুজ্জামান এসে অবস্থানরত সাংবাদিকদের মাঝে বসে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলেন এবং দ্রুত সময়ে আসামী গ্রেফতারে আশ্বস্ত করে। পরবর্তীতে সাংবাদিকরা অবস্থান কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়ায়।
এই সময় পুলিশ সুপার বলেন, রোকনুজ্জামান পারভেজ আমার সহকর্মী। আমরা একই সাথে মুক্ত কন্ঠে কাজ করতাম। ঘটনার সময় আমি ঢাকায় ছিলাম তাই আসামী গ্রেফতারে বিলম্ব হয়েছে। পুলিশের দুইজন অফিসারকে দায়িত্ব দিয়েছি। তারা আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আসামী গ্রেফতার করে আইনের সোপর্দ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২০ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে রোকনুজ্জামান পারভেজ তার পালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসে ছিলেন। তখন ২০ থেকে ২৫ জন সন্ত্রাসী মিলে এক নারীকে রড ও লাঠি দিয়ে মারধর করছিল। এক পর্যায়ে পারভেজের দোকানে আশ্রয় নেয় ওই নারী। তখন ওই সন্ত্রাসীরা দোকানে ঢুকেও ওই নারীকে মারধর করে। তখন ওই নারীকে মারধরের দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করলে সন্ত্রাসীরা পারভেজকে রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে ক্যামেরা এবং টাকা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। সংবাদ পেয়ে পালং থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

সাংবাদিক রোকনুজ্জামান পারভেজের ওপর সন্ত্রাসী হামলার আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় সাংবাদিকদের অবস্থান কর্মসূচী। ছবি-দৈনিক হুংকার।

মন্তব্য

comments

শরীয়তপুর নিউজে প্রকাশিত কোন তথ্য, ছবি, রেখচিত্র, আলোকচিত্র ও ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যাবহার করা নিষেধ!!