আজ শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৮ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

পদ্মার ভয়াল ভাঙনঃ দুই বছরে নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে ১২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

পদ্মার ভাঙনে শরীয়তপুরের মানচিত্র থেকে হারাতে বসেছে জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলা। ক্রমাগত ভাঙনে উপজেলায় আবাদি জমি, বসত-ভিটার পাশাপাশি গত দু’বছরে প্রায় ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ফলে ঝরে পড়ছে এসব প্রতিষ্ঠানের কয়েকশ শিক্ষার্থী।

বিলীন হওয়া এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলো হলো, কলমির চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নজুমদ্দিন বেপারীকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুন্ডেরচর হাসেম আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আলহাজ্ব মো. ইসমাইল উচ্চ বিদ্যালয়, কালু বেপারীকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর নড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইয়াকুব মাদবরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুরত খাঁ’র কান্দি জগৎ জননী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাথালিয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরভাগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যাল, পশ্চিম পাঁচগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শেহের আলী মাদবরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

ভেঙে যাওয়া এই স্কুলগুলোর অধিকাংশেরই ঠাঁই হয়েছে বাড়ির উঠান, ইউনিয়ন পরিষদের মাঠ অথবা সড়কের পাশে খোলা আকাশের নিচে। এতে রোদ-বৃষ্টিতে কষ্ট করে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

এখনও ভাঙনের মুখে রয়েছে ৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সেগুলো হলো, ঈশ্বরকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুরেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুরেশ্বর উচ্চবিদ্যালয় ও স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কাজিয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাহেদ আলী মাদবরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কালু বেপারী স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলা জেলার মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। পাশাপাশি মানবিক বিপর্যয়ে পড়বে বহু মানুষ। প্রাথমিক ও উচ্চ শিক্ষা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। ভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

বিলীন হওয়া এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান, পপি আক্তার, সাগরসহ অনেকেই জানায়, চোখের সামনে তাদের স্কুল পদ্মার গর্ভে গেছে। এখন তারা ইউনিয়ন পরিষদের মাঠে অথবা সড়কের পাশে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করে। বিদ্যালয় ভবন না থাকায় লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়ছে তারা। দ্রুত বিদ্যালয়ের ঘর নির্মাণের দাবি জানিয়েছে এসব শিক্ষার্থীরা।

জাজিরা উপজেলার কালু বেপারীকান্দি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শিক্ষক মো. সুরুজ মিয়া বলেন, গত ২৫ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটি ৯০ ভাগ নদীগর্ভে চলে যায়। কোনো রকমে আসবাবপত্রগুলো সড়াতে পেরেছি। এখন নড়িয়া মোক্তারের চর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও মাঠে শিক্ষার্থীদের কোনো রকমে পাঠদান করাচ্ছি।

নড়িয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, জাজিরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান ও জাজিরা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, পদ্মার ভায়াবহ ভাঙনের কারণে বিদ্যালয়গুলো বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের কারণে ঝরে পড়েছে কয়েকশ শিক্ষার্থী। ওই বিদ্যালয়গুলোকে কোথায় স্থাপন করবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন বলে জানান তারা।

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা ইয়াসমিন জানান, পদ্মার ভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলকে জানানো হয়েছে। আর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে শিক্ষা খাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, পদ্মার ভাঙনকবলিত উপজেলা জাজিরা ও নড়িয়া। এই দুটি উপজেলার অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিদ্যালয়গুলো নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার তথ্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে পাঠানো হয়েছে। আশা করি দ্রুত সরকার উদ্যোগ নেবে।

সুত্রঃ জাগো নিউজ

মন্তব্য

comments

শরীয়তপুর নিউজে প্রকাশিত কোন তথ্য, ছবি, রেখচিত্র, আলোকচিত্র ও ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যাবহার করা নিষেধ!!