শরীয়তপুর-৩ আসনে নাহিম রাজ্জাকের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

1963

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-৩ (ডামুড্যা-ভেদরগঞ্জ-গোসাইরহাট) আসনে নৌাকা প্রতিকের প্রার্থী প্রয়াত জননেতা আব্দুর রাজ্জাকের তনয় নাহিম রাজ্জাক নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
শনিবার দুপুর ১২টায় ডামুড্যার বাস ভবনের আঙ্গীনায় সাংবাদিক ও আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুতায়ন, আইনশৃঙ্খলা, অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ন, কর্মসংস্থান ও ডিজিটালাইজেশনে উন্নয়নকল্পে তার নির্বাচনী এলাকা আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এ ইশতেহার ঘোষণা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে, ডামুড্যা পৌর মেয়র বীরমুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবির বাচ্চু ছৈয়াল, ডামুড্যা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন মাঝি, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি কামাল উদ্দিন আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক বাবলু সিকদার, উপজেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা খালেদুর রহমান শিকদার ও মহিব্বুর রহমান চৌধুরী বাবু প্রমূখ।
নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নির্বাচনী ইশতেহারের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে। তিনি বক্তব্যে বলেন, আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে আপনারা মোবাইল ফোনে সকল প্রকার সেবা গ্রহন করার সুযোগ পেয়েছেন। প্রতিটি উপজেলা সদরে মসজিদ নির্মাণ ও একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি করে কলেজ জাতীয় করণ করা হয়েছে। সমজিদের ইমামদের বেতন প্রথা চালু হয়েছে। প্রয়াত নেতা আব্দুর রাজ্জাক আধুনিক শরীয়তপুরের রূপকার। তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। শরীয়তপুরে বিদ্যুত এনেছিলেন আব্দুর রাজ্জাক আর ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছে নাহিম রাজ্জাক। শরীয়তপুরের রাস্তাঘাট তৈরী করেছে আব্দুর রাজ্জাক আর ঘরে ঘরে রাস্তা পৌঁছে দিয়েছে নাহিম রাজ্জাক। আব্দুর রাজ্জাক ১৯৯৬ সালে মন্ত্রী হওয়ার পর উন্নয়নের কাজ শুরু করেছে আব্দুর রাজ্জাক, আর উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে নাহিম রাজ্জাক। উন্নয়নের ধারা তরান্বিত করতে নাহিম রাজ্জাককে নৌকা প্রতিকে ভোট দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে।
নাহিম রাজ্জাক তার নির্বাচনী ইশতেহারে বলেন, গ্রাম ও শহর আমার। আধুনিক নগরায়ন, তরুণ সমাজকে দক্ষ ও সমৃদ্ধিসহ জনশক্তিতে রূপান্তরিত ও কর্মসংস্থানের জন্য আমি কাজ করব। শরীয়তপুর-৩ (ডামুড্যা-ভেদরগঞ্জ-গোসাইরহাট) আসন জাতীয় বীর, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সাবেক সফল মন্ত্রী ও আধুনিক শরীয়তপুরের রূপকার প্রয়াত জননেতা আব্দুর রাজ্জাকের আদর্শ ও স্বপ্নে ঘেরা। আমি তার সন্তান হিসেবে স্বনির্ভর শরীয়তপুরের অঙ্গীকার নিয়ে আগামী পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করছি।
তিনি বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে আমি ব্যাপক নজরদারী বিস্তার করেছি। শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ, বিদ্যালয় ও জলেজ জাতীয় করণ, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৈশ প্রহরী কাম দপ্তরী নিয়োগ, ডিজিটাল ল্যাপ স্থাপন, টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ নির্মাণ, ডিজিটাল লাইব্রেরী স্থাপন, ছাত্রাবাস স্থাপন করেছি। ডামুড্যা উপজেলায় নার্সিং ইনস্টিটিউট নির্মাণ প্রক্রিয়া চালমান রয়েরছ। সকল মানুষের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা নিশ্চিত করনের লক্ষ্যে কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ, ৩১ সয্যা বিশিষ্ট ৩টি হাসপাতালকে ৫০ শয্যায় রূপান্তরিত করণ, ১০ সয্যা বিশিষ্ট ৩টি মা ও শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে একটি করে এ্যাম্বুলেন্স দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতের গোসাইরহাট হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৭০ হাজার ৩২১ জন গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে থানা আধুনিকায়ন করা সহ নতুন করে পুলিশ ফাঁড়ি ও তদন্ত কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ, পরিকল্পিত নগরায়ন ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে দ্রুত গতিতে কাজ করা হচ্ছে।
ইশতেহার ঘোষণাকালে নাহিম রাজ্জাক আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলার স্বপ্নে সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশের প্রত্যয়ে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইশতেহার ঘোষণা করে। যার মধ্যে রয়েছে, আমার গ্রাম-আমার শহর, প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ, তারুণ্যের শক্তি-বাংলাদেশের সমৃদ্ধি, তরুণ যুব সমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করা এবং কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা, দূর্নীতির বিরুদ্ধে জিড়ো টলারেন্স নীতি গ্রহন, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা ও শিশুকল্যাণ, পুষ্টিসম্মত ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা, সন্ত্রাস-সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদ ও মাদক নির্মূল, মেগা প্রজেক্টগুলোর দ্রুত ও মানসম্মত বাস্তবায়ন, গণতন্ত্র ও আইনের মাসন সুদৃঢ় করা, দারিদ্র নির্মূল, সকল স্তরে শিক্ষার মান বৃদ্ধি, সকলের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা, সার্বিক উন্নয়নে ডিজিটাল প্রযুক্তির অধিকতর ব্যবহার, বিদ্যুৎ ও জালানি নিরাপত্তা, আধিুনক কৃষি ব্যবস্থা-লক্ষ্য যান্ত্রিকিকরণ, দক্ষ ও সেবামূখী জনপ্রশাসন, জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, ভূ-ইকোনোমি-সমুদ্র সম্পদ উন্নয়ন, নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তা, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও অটিজম কল্যাণ, টেকসই উন্নয়ন ও অন্তভূক্তিমূলক উন্নয়ন-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, সরকারী এবং বেসকারী বিনিয়োগ বৃদ্ধি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নির্বাচনী ইশতেহারের সাথে মিল রেখে আগামী পাঁচ বছরের জন্য আমি আমার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আপনাদের সামনে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করলাম। আমি আপনাদের সাথে নিয়ে সাবেক সফল পানি সম্পদ মন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত জাতীয় নেতা আব্দুর রাজ্জাকের স্বপ্নের শরীয়তপুর-৩ আসনকে আধুনিক হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
শরীয়তপুর-৩ আসনের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নৌকা প্রতিকে ভোট দিয়ে আবারও শেখ হাসিনাকে দেশের প্রধানমন্ত্রী বানাতে হবে। তাহলে দেশ ও জাতীর উন্নয়ন সম্ভব। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হলে আগামী ১ জানুয়ারী থেকে উন্নয়ন কাজ শুরু হবে। একই সাথে শরীয়তপুর-৩ আসনের (ডামুড্যা-গোসাইরহাট-ভেদরগঞ্জ) অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করা সম্ভব হবে। প্রয়াত নেতা আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাকের আদর্শের শরীয়তপুর আধুনিক রূপ পাবে।

::শেয়ার করুন::
Share on Facebook
Facebook
Share on Google+
Google+
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Print this page
Print
Email this to someone
email

মন্তব্য

comments