আজ বুধবার| ২২ জানুয়ারি, ২০২০ ইং| ৯ মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনা তাঁতপল্লী পূর্ব নির্ধারিত স্থান জাজিরায় স্থাপনের দাবীতে মানববন্ধন

রবিবার, ৩১ মার্চ ২০১৯ | ৯:০০ পূর্বাহ্ণ | 92 বার

শেখ হাসিনা তাঁতপল্লী পূর্ব নির্ধারিত স্থান জাজিরায় স্থাপনের দাবীতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: শরীয়তপুরের জাজিরায় বরাদ্দকৃত শেখ হাসিনা তাঁতপল্লী মাদারীপুরের শিবচরে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শরীয়তপুরবাসী মানবন্ধনের আয়োজন করেন।

শরীয়তপুর আলোকিত সমাজের আয়োজনে শরীয়তপুর জেলার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ এ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন। শনিবার (৩০ মার্চ) ভাষা সৈনিক ডা: গোলাম মাওলা সরকারী গণ গ্রন্থাগার এর সামনে প্রধান সড়কে সকাল ১০ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত এ মানববন্ধন পালিত হয়। মানববন্ধনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তাঁত পল্লীটি পূর্ব নির্ধারিত স্থান জাজিরায় নির্মাণ এবং দুর্নীতিবাজদের শাস্তির দাবী জানিয়ে মানববন্ধন করেন শরীয়তপুর আলোকিত সমাজ।

গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁতপল্লীটি শরীয়তপুরের জাজিরায় এবং মাদারীপুরের শিবচর নির্মিত হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু শরীয়তপুরের স্থানীয় কিছু দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তি এবং জেলা প্রশাসনের কিছু দায়িত্বশীল কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলার কারণে সেই তাঁতপল্লীটি এককভাবে মাদারীপুরের শিবচরে নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আর এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই গ্রহণ করেননি শরীয়তপুর জেলা প্রশাসন। এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে শরীয়তপুরবাসীর মনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তাঁতপল্লীটি পূর্ব নির্ধারিত স্থানে নির্মাণ এবং দুর্নীতিবাজদের শাস্তির দাবীতে জেলাবাসী মানববন্ধন করেছে। মানববন্ধনে কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ জেলার সর্বস্তরের জনগণ অংশ নেয়।

মানববন্ধনে শরীয়তপুর আলোকিত সমাজ এর আহ্বায়ক এড. মুরাদ হোসেন মুন্সী তার বক্তব্যে বলেন, প্রকল্প এলাকায় কিছু অসাধু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী সরকারি অর্থ হাতিয়ে নেয়ার পায়তারা করছে। তাই তারা প্রকল্প এলাকায় রাতারাতি ঘর-বাড়িসহ নানা স্থাপনা নির্মাণ এবং গাছপালা লাগিয়েছে। এই অবস্থা দেখে শিবচরের অংশের অবৈধ স্থাপনা গুলো মাদরীপুর প্রশাসন জরুরী ভিত্তিতে উচ্ছেদ করেছে। কিন্তু উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও শরীয়তপুরের জাজিরা অংশের ঘর-বাড়িসহ নানা স্থাপনা এবং গাছপালা উচ্ছেদ করা হয়নি। এমনকি উচ্ছেদের জন্য প্রশাসন তেমন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। সেখানে এখনও শত শত অবৈধ স্থাপনা এবং গাছপালা রয়ে গেছে। যার ফলে যেসব এলাকায় এখনো অবৈধ স্থাপনা রয়েছে, প্রকল্প থেকে ওই সব এলাকা বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে শরীয়তপুরবাসীর মনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তাঁতপল্লীটি পূর্ব নির্ধারিত স্থানে নির্মাণ এবং দুর্নীতিবাজদের শাস্তির দাবী জানিয়েছে শরীয়তপুরের আলোকিত সমাজ। শরীয়তপুর আলোকিত সমাজ এর আয়োজনে বক্তব্য রাখেন, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি এবং শরীয়তপুর সরকারী কলেজ সাবেক অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ মানবধিকার কমিশন শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি এড. মাসুদুর রহমান, সুশাসনের জন্য নাগরিক এর শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি আহসান উল্লাহ ইসমাইলী, ভাবনার কাশবন এর সম্পাদক স্বপণ সরকার, কোর্ট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আঃ সামাদ বেপারী, শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি শেখ খলিলুর রহমান, মফম্বল সাংবাদিক ফোরাম এর শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি এম.এ ওয়াদুদ মিয়া এপেক্স ক্লাব শরীয়তপুর জেলার সিনিয়র সহ-সভাপতি এ্যাড. হুমায়ন কবির মুন্সী, এ্যাড. মনিরুজ্জামান দিপু, এ্যাড. এনামুল হক (সবুজ), এ্যাড. শামসুল আলম, এ্যাড. আব্দুল মালেক, এ্যাড. সানোয়ার, এ্যাড. আমিনুল, জাগো শরীয়তপুর এর আহবায়ক আমিনুল জিতু, নিরাপদ সড়ক চাই শরীয়তপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শ্রী সমীর চন্দ্র শীল, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট এর সিনিয়র সহ-সভাপতি, আমরা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ঢাকা বিভাগীয় কেন্দ্রীয় কমিটি সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ খাঁন, শরীয়তপুর জেলার সাইক্লিষ্ট সংগঠক আঃ মোতালেব সুমন সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সব স্তরের জনগণ। শরীয়তপুর আলোকিত সমাজের আহবায়ক এ্যাড. মুরাদ হোসেন মুন্সী জানান, দাবী আদায় না হলে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারক লিপি প্রদান সহ জেলার সকল স্তরের জনগণকে সাথে নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচী ঘোষণা দেওয়া হয়।

:: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন::
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on Google+
Google+
Email this to someone
email
Print this page
Print

মন্তব্য

comments


সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  
ফেইসবুক পাতা
error: Content is protected !!