শেখ হাসিনা তাঁতপল্লী জাজিরায় রাখার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি

74

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘শেখ হাসিনা তাঁতপল্লী প্রকল্প’ শরীয়তপুর অংশ থেকে না সরানো দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর শরীয়তপুরের সর্বস্তরের মানুষ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহেরের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

সর্বস্তরের মানুষের পক্ষে স্বারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন, ভাষা সৈনিক জালাল উদ্দিন, জাগো শরীয়তপুরের আবুল ফজল মাস্টার, শরীয়তপুর আলোকিত নাগরিক সমাজের আহবায়ক অ্যাড. মুরাদ হোসেন মুন্সী, নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি আসমত আলী খান, জেলা মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি অ্যাড. মাসুদুর রহমান, জেলা উদিচির সভাপতি আজিজুর রহমান রোকন, নিরাপদ সড়ক চাই এর জেলা সাধারণ সম্পাদক সমির চন্দ্র শীল, জেলা সুজনের সভাপতি আহসান উল্লাহ ইসমাইলী, ফ্রেন্ড পালং এর প্রচার সম্পাদক কাজী মোজাম্মেল হক, শরীয়তপুর বিজ্ঞান ও সাহিত্য চর্চা কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল জিতু, শরীয়তপুর পরিবেশ রক্ষা সমিতির সদস্য জিল্লুর রহমান সহ আরো অনেকে।

গত ২৬ মার্চ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনকালে ১৯শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে যাওয়া শেখ হাসিনা তাঁতপল্লীর পূর্বনির্ধারিত স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানান জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী এমপি। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, প্রকল্প এলাকায় কিছু অসাধু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী সরকারি অর্থ হাতিয়ে নিতে রাতারাতি ঘর-বাড়িসহ নানা স্থাপনা নির্মাণ এবং গাছপালা লাগিয়েছিল। তবে এর মধ্যে শিবচরের অংশের অবৈধ স্থাপনা প্রশাসন উচ্ছেদ করলেও শরিয়তপুরের জাজিরা অংশে এখনও শত শত অবৈধ স্থাপনা রয়ে গেছে। ফলে যে সব এলাকায় এখনো অবৈধ স্থাপনা রয়েছে, প্রকল্প থেকে ওই সব এলাকা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তনেওয়া হয়েছে।’

স্থান পরিবর্তনের যুক্তি তুলে ধরে চিফ হুইপ আরও বলেন, দুই জেলায় প্রকল্প করতে গেলে অনিয়ম সহ আইন-শৃঙ্খলা অবনতি হলে নিয়ন্ত্রণে জটিলতা সৃষ্টি হবে। তাই সংসদীয় কমিটি, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা সবাই একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, শেখ হাসিনা তাঁতপল্লি একই উপজেলায় হবে। আর এজন্য মাদারীপুরের শিবচরের কুতুবপুর এলাকায় জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফুসে উঠেছে শরীয়তপুরের মানুষ। গত ৩০ মার্চ মানবন্ধন কর্মসুচি পালন করে শরীয়তপুরবাসী। মাবন্ধনে পূর্ব নির্ধারিত স্থান জাজিরায় শেখ হাসিনা তাঁতপল্লী নির্মাণের জোড়ালো দাবী জানানো হয়। দাবি মানা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণাও দেয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, পদ্মা পদ্মাসেতু সংলগ্ন জাজিরা ও শিবচরে ১২০ একর জমির উপর তাঁতপল্লী গড়ে তোলার বিশাল পরিকল্পনা গ্রহণ করে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে প্রস্তাবিত এই পল্লীতে তাঁতিদের জন্য ৪২টি আবাসিক ভবন নির্মাণ করে ২০১৬ জন তাঁতির প্রত্যেককে একটি করে ৮০০ বর্গফুটের ফ্লাট দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এছাড়া তাঁতিদের জন্য তাঁত শেড, কারিগরদের বাসোপযোগী ডরমিটরি, রেস্টহাউজ, সাইবার ক্যাফে তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

১ হাজার ৯১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার ৯২ নং কুতুবপুর মৌজায় ৬০ একর জমি এবং শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলায় ১০১ নং নাওডোবা মৌজায় ৬০ একর জমিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছিলো।

২০১৪ সালের ১২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করে রাজধানীর বাইরে একটি তাঁতপল্লী গড়ে তোলার নির্দেশনা দেন। এরপর ২০১৪ সালের ১৮ নভেম্বর একনেক সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ঢাকার মিরপুরের বেনারসি পল্লী ঢাকার বাইরে খোলামেলা পরিবেশে স্থানান্তর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তাঁতিদের জন্য ঘরবাড়ি ও শিশুদের জন্য স্কুল, কলেজ স্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণসহ তাঁতিদের উন্নত কাজের পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা গ্রহণেরও অনুশাসন দেওয়া হয়। এ প্রেক্ষিতে প্রকল্পটি গ্রহণ করে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড।

::শেয়ার করুন::
Share on Facebook
Facebook
Share on Google+
Google+
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Print this page
Print
Email this to someone
email

মন্তব্য

comments